বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাঙ্গালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এলাকার প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করছে। এতে মানুষের হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি ও কোটি টাকার ব্রীজ সহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
জানা গেছে, ধুনট-শেরপুর সড়কের বথুয়াবাড়ি বঙ্গালী উপর নির্মিত প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুর উত্তর পাশে নদীর মাঝামঝি স্থানে বথুয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুল মোতালেব, ওয়াহেদ আলী, আলতাব হোসেন ও নুরু মিয়া ৩/৪টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গত দুই তিন মাস যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
তারাকান্দি গ্রামের সোবাহান আলী কানু ও জিয়াউর রহমান বলেন, বালু দস্যুরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। নদীর গভীর তলদেশ থেকে পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে ট্রাকে করে বিক্রি করছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বথুয়াবাড়ি সেতু সহ নদীর তীরবর্তী তারাকান্দি, নবীনগর ও বথুয়াবাড়ি গ্রামের শত শত বিঘা ফসলী জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এবিষয়ে এলাকার শতাধিক মানুষ স্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ড্রেজিং পদ্ধতিতে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে ভরা বর্ষায় তাদের বসতভিটা ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হবে। তথ্যমতে, ২০১০ সালের বালু উত্তোলনের নীতিমালায় যন্ত্র চালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর গভীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সেতু, কালভার্ট, রেললাইন সহ মুল্যবান স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্য থেকে বালু উত্তোলন করা বে-আইনি। অথচ বালু দস্যুরা সরকারী ওই আইন অমান্য করে ধুনট-শেরপুর সড়কের বথুয়াবাড়ি বাঙ্গালী নদীর উপর ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুর কয়েক গজ দুরে থেকেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। এছাড়া উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের বিলচাপড়ী জোড়া সেতুর পাশে এবং নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী সেতুর পাশে একইভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের জয়শিং ঘাট দখল করে ফরহাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। এছাড়া ঝাজড়, নান্দিয়ারপাড়া, নাংলু, ধামাচামা সহ বাঙ্গালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে বালু ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া সুলতানা বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন