বগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট (বগুড়া) ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট থানা ভবনের সামনেই ধুনট সাব রেজিষ্ট্রি অফিস। অফিসের প্রধান ফটকে প্রবেশ করতে চোখে পড়ল একটি ব্যানার। তাতে লেখা রয়েছে আমি ও আমার অফিস দূর্ণীতি মুক্ত। কিন্তু অফিসের ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলল ঘুষ দূর্ণীতির অসংখ্য চিত্র। প্রকাশ্যেই ঘুষ নিচ্ছেন অফিসের নকল নবিশ রেজাউল করিম। তিনি ভূয়া খাজনা খারিজের জন্য তাহের মল্লিক নামের এক দলিল লেখকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেল। কিন্তু এসময় স্থানীয় এক সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলেই ভেস্তে যায় তার ঘুষ বানিজ্য। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ধুনট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যেই দেখা মেলে এসব ঘুষ বানিজ্যের দৃশ্য।


অনুসন্ধানে জানাযায়, যাদের দলিলের কোন কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে কিংবা খাজনা খারিজ নেই তাদের কাছ থেকে অফিস খরচের জন্য রেজাউল করিম আদায় করছেন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। রেজাউল করিম টাকা নিয়ে দলিল পার করে দিচ্ছেন সাব রেজিষ্ট্রারের অফিস কক্ষে। আর সাব রেজিষ্ট্রার দলিল রেজিষ্ট্রি করছেন। তবে খাজনা খারিজ ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রি হওয়ার নিয়ন না থাকলেও ঘুষের বিনিময়ে নকল খাজনা খারিজ ও নকল কাগজপত্র তৈরী করে দলিল রেজিষ্ট্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি দলিল রেজিষ্ট্রি করার নির্ধারিত ফি থাকলেও অফিসের পিয়ন (ক্যাশিয়ার) আদায় করছে এক লাখ টাকার দলিলে ৮০০ টাকা অতিরিক্ত ফি। তাইলে ১০ লাখ টাকা জমির মূল্যের একটি দলিল রেজিষ্ট্রি করতে ঘুষ আদায় হচ্ছে ৮ হাজার টাকা করে। আর এভাবে সারাদিনে ২০/৩০টি দলিল রেজিষ্ট্রি হলে অফিসের ঘুষ আদায় হয় গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। অফিস শেষে ওই ঘুষের টাকা সাব রেজিষ্ট্রার রিপন চন্দ্র মন্ডল সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন দলিল লেখক জানান, জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলেও অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন দলিল রেজিষ্ট্রি হয় না। এছাড়া খাজনা খারিজের জন্য অতিরিক্ত ঘুষ নেওয়া হয়। আর এসব ঘুষ আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অফিসের নকল নবিশ ও পিয়নকে। তারা ঘুষের টাকা তোলার পর সাব রেজিষ্ট্রারের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।
তবে ঘুষ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে ধুনট সাব রেজিষ্ট্রার রিপন চন্দ্র মন্ডল বলেন, তার অফিসে কোন দূর্ণীতি হয় না।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন