বগুড়া সংবাদ ডটকম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের কানচগাড়ী মহাশশ্মানের কাঁচা রাস্তা, বোয়ালমারী, লক্ষ্মীকোলা, চকগোপাল, গাংনগর, পাতাইর কাঁচা রাস্তাগুলো বিশিষ্ট যুবলীগ নেতা দেউলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই এর নেতৃত্বে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়ন করায় এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এলাকার প্রবীন মহানন্দ (৮০) বলেন, আমাদের এলাকাটি অবহেলিত, রাস্তাঘাট একেতো তেমন উন্নয়ন নেই- তার উপর ২০১৭ সালের শেষের দিকে বন্যার পানিতে ফসল ও রাস্তা ঘাটগুলো তলিয়ে গিয়েছিল। যার ফলে এসব কাঁচা রাস্তাগুলো খানা খন্দরে পরিনত হয়। এজন্য কৃষক তার চাষ করা ফসল বাজারে সঠিক সময়ে না নিয়ে যেতে পেরে নায্যমূল্যে বিক্রি করা থেকে বঞ্চিত হয়। এসব চলাচলের অযোগ্য পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণির পথচারীরা চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এজন্য এলাকার শহিদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা ভোট নেওয়ার জন্য গরীবের বন্ধু সেজে আছে, কিন্তু পরে আমাদের কষ্টের সময় কোন জনপ্রতিনিধিকেব খুজে পাওয়া যায় না। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হাই নিজেই শ্রমিক লেগে দিয়ে আমাদের এই বোয়ালমারী রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন। এখন আমাদের চলাচলে আর কষ্ট নেই। এজন্য চেয়ারম্যান আব্দুল হাইকে আল্লাহ্ তা’আলা দীর্ঘজীবি করুক।
কানচগাড়ী মহাশশ্মানের রাস্তাটি অতিদরিদ্র কর্মসৃজন প্রকল্পের অধীনে সংস্কার করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা চেয়ারম্যান সাহেবকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। কানচগাড়ী মহাশশ্মান কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার (৬০) ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার (৬৫) বলেন, চেয়ারম্যানগণ যদি মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকে, তবে নির্বাচনের সময় তাদের পরাজিত হতে হবে না। কারণ মানুষের শেষ ঠিকানা মৃত্যু। চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আমাদের মৃত দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তা সংস্কার করে দিয়েছেন। তাছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের (মৃতদেহ) চিতা পুরানোর ঘর নিজ উদ্যেগে নির্মান করে দিয়ে আমাদের যে উপকার করেছেন, তা আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভুলব না। এছাড়া আমাদের মন্দিরের জায়গা বৃদ্ধি করার জন্য ১৬ শতক জমি ক্রয় করতে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি। তারা আরো বলেন, গ্রামের রাস্তাগুলো যদি এ প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়ন করে তবে অবহেলিত কিছু রাস্তাঘাট উন্নয়ন করা সম্ভব।
এলাকাবাসী জানান, দেউলী ইউনিয়নে বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া কয়েকটি সংস্কার করায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের পথ চলাচলের সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। এসব কাজে সহযোগিতা করেন ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন, শাহিদুল ইসলাম, মেহেদুল ইসলাম, রেহানা বেগম, সমাজসেবক জাহিদুল ইসলাম, সরদার শহিদুল ইসলাম প্রমূখ। এবিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, আমি মানুষের কতটা সুখে-দুখে পাশে থাকতে পারলাম ও উপকার করলাম তা আমার চেয়ে মানুষই ভালো বলতে পারবে। তবে আমার বিবেগ দিয়ে মানুষের সাথে মিলেমিশে থেকে সাধ্যমত উন্নয়ন করার চেষ্টা করি। আরো উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সরকারি বিধি মোতাবেক কাজ করে নেওয়ার মাধ্যমে এলাকার গ্রামীন রাস্তা-ঘাট, মসজিদ সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন করার জন্য চেষ্টা করি। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন