বগুড়া সংবাদ ডট কম (শেরপুর প্রতিনিধি রায়হানুল ইসলাম) : ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ৯টা। এদিক ওদিক বসে আছে শত শত মানুষ। দেখে মনে হচ্ছে কারো জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ বসে থেকে কপাল কুচকিয়ে সবাইকে আবার চলে যেতে দেখা যায়। এমনই ঘটনা ঘটছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে।এ সময় কমিউনিটি ক্লিনিকে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, ডাক্তাররা (সিএইচসিপি)রা নাকি চাকুরি জাতীয়করনের জন্য আন্দোলন করছে। গত কয়েকদিনে স্বাস্থ্য সেবা নিতে ক্লিনিকে আসলেও কোন সেবা না পেয়ে ফিরে গেছে অনেকেই।
এ প্রসঙ্গে সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় আহবায়ক আফাজ উদ্দিন লিটন ও বগুড়া জেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান পয়েট জানান, স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার জনকল্যাণমূলক এ প্রকল্পটি চালু করে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে জনপ্রিয় এই স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পটি বন্ধ করে দিলেও পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় জনপ্রিয় এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আবারো রিভাটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে চালু হয় কমিউনিটি ক্লিনিক। সারা দেশের মতো বগুড়ার শেরপুরে বর্তমানে চালু রয়েছে ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য নিয়োজিত রয়েছে ১ জন হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ১ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও ১ জন পরিবার কল্যান সহকারী।
কিন্তু প্রথম প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চাকরি রাজস্বখাতে না নিয়ে কমিউনিটি বেজড হেল্থ কেয়ার (অপারেশন প্লানে) স্থানান্তর করে। ২০১৩ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের পক্ষে স্বাঃ/অধিঃ/প্রসা-৩/বিবিধ-৩/২০০৮/৪৬৬৮/১/(০৩) স্মারকে ডাঃ মোঃ শাহনেওয়াজের স্বাক্ষরিত সিএইচসিপিদের চাকরি স্থায়ী করনের একটি চিঠি সকল সিভিল সার্জন অফিসে দেওয়া হয়। যাতে উল্লেখ আছে সরকার খুব দ্রুত সিএইচসিপিদের চাকুরি স্থায়ীকরন করা হবে। ২০১৪ সালে ২২ এপ্রিল তারিখে আরসিএইচসিআইবি/সিসি/সার্কুলার-১২৪/৬৭১ স্মারকে অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মাখদুমা নার্গিসের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সকল সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দেয়া হয়। যাতে উল্লেখ আছে সিএইচসিপিদের বিশেষ গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) খুলতে হবে। কিন্তু তার কোনটি বাস্তবায়ন না করে সিএইচসিপিদের ট্রাষ্টে নেয়ার ঘোষনা আসে সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।
ট্রাষ্টে দেয়ার খবর অবগত হয়ে ২০১৫ সালে ট্রাষ্ট বাতিল ও চাকুরি জাতীয়করনের দাবিতে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করে সিএইচসিপিরা। কিন্তু তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় এবারো এক দফা এক দাবি চাকুরি জাতীয়করনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। চাকুরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত, আমরা কেউ কমিউিনিটি ক্লিনিকে ফিরে যাবনা।
এদিকে সিএইচসিপিরা তাদের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ রেখে চাকুরী জাতীয়করণের দাবীতে আন্দোলনে থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে এ উপজেলার হাজারো হতদরিদ্ররা। তবে খুব শির্ঘ্রই এ সমস্যার সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশুহস্তক্ষেপ করবেন বলে এমনটাই আশা করছেন সচেতনমহলসহ ভুক্তভোগীরা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন