বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর জিয়াউর রহমান) : বগুড়ায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে উজ্জল হোসেন (৩৩) নামের এক ব্যবসায়ীকে কৌশলে অপহরণের পর অস্ত্রের মুখে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। উজ্জল হোসেন বগুড়া দুপচাচিয়া উপজেলার পশ্চিম হালোহালি দামিয়াপাড়ার জালাল উদ্দিনের পুত্র।
উজ্জল হোসেন জানান, তিনি পুরাতন মটরসাইকেল কেনা-বেচার ব্যবসা করেন। রোববার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে তার দুইজন সহযোগী একই গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের পুত্র বাবু (৩০) ও মজিবর রহমানের পুত্র এমদাদুল (১৯) কে সাথে নিয়ে মটরসাইকেল যোগে বগুড়া তিনমাথা রেলগেট হয়ে বিআরটিএ অফিসে ফিংগার প্রিন্টের জন্য আসছিলেন। পথিমধ্যে আজিজুল হক কলেজের সামনে রেলগেট পার হতেই পিছন দিক থেকে এক ব্যক্তি ম্যাট ব্লু রংয়ের এ্যাপাচি আরটিআর মটরসাইকেল নিয়ে এসে ব্যারিকেট দিয়ে মটরসাইকেল থামায় এবং আইডি কার্ড দেখিয়ে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র দেখতে চায়। আইডি কার্ডে আনিছুর রহমান কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি ইন্চার্জ লেখা ছিল। কাগজপত্র দেখানোর পর তা যাচাইয়ের জন্য মটরসাইকেল সহ তাদেরকে বিআরটিএ অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জজ কোর্টের সামনে নিয়ে আসে। তারপর বলে তোদের কাছে আর কি কি আছে বের কর। মানিব্যাগ বের কর। উজ্জল হোসেন মানিব্যাগ বের করলে তা হাতে নেয় এবং অপর সহযোগী বাবুর মানিব্যাগ বের করতে বলে। বাবুর মানিব্যাগে থাকা ৪ হাজার টাকা বের করে উজ্জল হোসেনের মানিব্যাগে রেখে ওই দুইজনকে মটরসাইকেল নিয়ে বিআরটিএ অফিসে যেতে বলে আর উজ্জলকে মটরসাইকেলে করে নিয়ে আলতাফুন্নেছা খেলা মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে নিয়ে যায়। সেখানে বাবুর ৪ হাজার এবং উজ্জলের মানিব্যাগে থাকা ৪ হাজার টাকা বের করে নিয়ে কমরে থাকা পিস্তল বের করে বলে কোন হৈচৈ করবি না। সোজা চলে যা। না হলে এই পিস্তল দিয়ে পায়ে গুলি করবো এবং পকেট থেকে পলেথিনে মোড়ানো ইয়াবা ট্যাবলেট বের করে বলে এই ইয়াবা দিয়ে মামলা দিবো। এই বলে মটরসাইকেল টান দিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইন্চার্জ আনিছুর রহমানকে বিষয়টি জানালে তিনি আশ্চার্য হয়ে যান এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভিকটিমদেরকে ডেকে নিলে আনিছুর রহমানই সেই ব্যক্তি নন বলে জানান তারা।
আজিজুল হক কলেজ এলাকা স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির অধিনে হওয়ায় বিষয়টি স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইন্চার্জ দুরুল হুদাকে জানালে তিনি ভিকটিমদেরকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেন।
দুরুল হুদা জানান, এই রকম ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের আশ পাশের বিল্ডিংয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যে কোন উপায়ে অপরাধীকে গ্রেফতার করা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন