বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়া শাজাহানপুরের কমরউদ্দিন ইসলামিয়া কলেজ জাতীয়করণ হওয়ায় উৎসব-আনন্দে মেতে উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। জাতীয়করণের সংবাদ পেয়ে বুধবার সকাল থেকেই উপজেলার ডেমাজানী এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় ভরে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। দুপুরের মধ্যে মিষ্টি শুন্য হয়ে পড়ে ডেমাজানী বন্দরের মিষ্টির দোকান গুলো। কলেজ প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পর জাতীয়করণ হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্থানীয়রা মিলে মেতে ওঠেন আনন্দ-উল্লাসে। দুপুরের দিকে সেই আনন্দ-উল্লাসে যোগদেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু।
কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএম শফিকুত তারিক জানান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মরহুম অধ্যাপক আব্দুল বারী সরকার ১৯৮৬ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে কলেজের সাধারণ ও কারিগরি শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ৫৯০ জন এবং বি.এ ও বি.এস.এস শ্রেণিতে ৪৬৮ জন সহ সর্বমোট ১ হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। প্রশাসনিক ও পাঠদান কাজে নিয়োজিত আছেন ৭২ জন শিক্ষক-কর্মচারি। কলেজটির লেখাপড়া ও অবকাঠামোগত মান ভাল হওয়ায় ১৯৯৭ সাল থেকে কলেজটি এইচএসসি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার যখন থেকে উপজেলা পর্যায়ে একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করা শুরু করেছে। তখন থেকেই কমরউদ্দিন ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু বলেন, শিক্ষা ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ চরম সত্য উপলব্ধি করার মতো বিচক্ষনতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রয়েছে। তাই তিনি প্রতিটি উপজেলায় একটি মাধ্যমিক এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এ মহৎ উদ্যোগকে বাঙ্গালী জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।
উল্লেখ্য, কলেজটি জাতীয়করণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৫ সালের ১৭ আগষ্ট কলেজটির তথ্য চেয়ে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এরপর একই বছরের ২১ অক্টোবর স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ একপ্রস্ত কাগজপত্র শিক্ষামন্ত্রণালয়ে জমা দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ২ বছর অপেক্ষার প্রহর শেষে কলেজটি জাতীয়করণের তালিকায় স্থান পায়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন