bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভাতিজাকে চুরির অপবাদে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্যদের হামলায় আব্দুর রশিদ (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। রবিবার রাত ১০টায় গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বড়বিলা পূর্বপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রশিদ ওই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর শেখের ছেলে।
থানাপুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, গত কয়েকদিন আগে নারায়নপুর গ্রামের এক অটো ভ্যান চালকের একটি ব্যাটারী চুরি হয়ে যায়। ওই ব্যাটারীটি এক ব্যক্তি নিহত আব্দুর রশিদের ভাতিজা বড়বিলা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে নূর ইসলামের অটোভ্যানে নিয়ে অন্য এক জায়গায় বিক্রি করে দেয়। রবিবার রাত ৯টায় এরই জেরধরে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য নারায়নপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন বড়বিলা গ্রামের ভ্যানচালক নূর ইসলামকে চুরির অপবাদ দিয়ে তার বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তার চাচা আব্দুর রশিদ ও তার পরিবারের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন তাদের সামনেই নূর ইসলামকে বেদম মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে ভ্যান চালক নূর ইসলাম দৌড়ে পালিয়ে গেলে তারা তার বৃদ্ধ চাচা আব্দুর রশিদকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ২শ গজ দূরে তাকে বেদম মারধর করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে বৃদ্ধ আব্দুর রশিদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে। সংবাদ পেয়ে সোমবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের স্ত্রী লিলি বেগম জানান, ভ্যাটারী চুরির অপবাদ দিয়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, রঞ্জু মিয়া, মঞ্জু মিয়া ও লতিফ মিয়া সহ ৩০/৩৫ জন অতর্কিতভাবে বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাতিজা নূর ইসলামকে মারধর করতে থাকে। এসময় আমরা বাধা দিলে আমাকে মারধর করে তার চাচা আব্দুর রশিদকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন