বগুড়া সংবাদ ডট কম (গাবতলী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম লাকী) : বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার প্রয়াত ওসি আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ আল হাসান (৪৩) আত্মহত্যার প্ররোচনায় দায়েরকৃত মামলায় দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করা হয়েছে। গত ১৩জানুয়ারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার ওসি তদন্ত নুরুজ্জামান প্রায় ১০মাস পর এই চার্জশীটটি দাখিল করেন। চার্জসিটে অভিযুক্তরা হলো প্রয়াত ওসি আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ আল হাসান এর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রুমানা আক্তার মিতু (২৮) এবং মিতুর পিতা মোকছেদ আলী (৬৬)।
উল্লেখ্য, নাটোর জেলার কদমতলী বড়াই গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ আল হাসান গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী গাবতলী মডেল থানায় অফিসার্স ইনচার্জ হিসাবে কাজে যোগদান করেন। কর্মদক্ষতার কারণে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে তিনি এলাকায় প্রশংসিত হন। তিনি এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সংসার জীবনেও খুব সুখে-শান্তিতে ছিলেন। কিন্তু তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মিতু মাঝে মধ্যেই তাঁকে ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। এরই একপর্যায়ে গত বছরের ২৯ মার্চ সকালে ওসি আব্দুল্লাহ আল হাসান থানা অফিসে আসেন। এরপর মোবাইল ফোনে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মিতুর সঙ্গে ঝগড়া হয়। পরে বেলা পৌনে ১১টায় তিনি থানা কোয়ার্টারের বাসায় গিয়ে সেলিং ফ্যানের সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে যান। সেখানে তিনি বড় স্ত্রীর উদ্দ্যেশে লিখেছেন ছেলে-মেয়েকে মানুষ করো। আর তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রুমানা আক্তার মিতুকে। এ ঘটনায় ওসি হাসানের বড় স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মিতু ও তার বাবাকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে অভিযুক্তরা জামিনে রয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন