বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি মো: ফিরোজ কামাল ফারুক) : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের ঘরে ঘরে তাল কুড়ানো ও বড়া-পিঠা তৈরি করে খাওয়া এবং আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠানোর ধুম পড়ে গেছে। যেন তালপিঠা তৈরির উৎসব চলছে। একইভাবে আবহমান বাংলার পুকুরপাড়ে এক পায়ে দাঁড়ানো তালগাছটি থেকে পাকা তালের মৌ মৌ গন্ধ মেঠোপথের পথিকের নাকে এনে মনে করিয়ে দিচ্ছে মাসের নাম।
তবে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তি ঘটছে তালগাছের। হারিয়ে যেতে বসেছে পুরানো ঐতিহ্যে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষ করে শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে তাল পাকতে শুরু করে। তা পর্যায়ক্রমে চলে মাসাধিক কাল ধরে। আর এ পাকা তালের রসদিয়ে তৈরি হয় রকমারি পিঠা। এলাকার প্রতিটি পরিবার তালের রস দিয়ে স্থানীয় ভাষায় পিঠা, বড়া, তালরুটি, ধাবড়িপিঠা, মুঠাসহ বিচিত্র ধরনের খাবার তৈরি করেন। শুধু গ্রাম-গঞ্জের লোকজনই নয় এমনকি শহরের অনেক পরিবারের লোকজন বিশেষ করে নতুন জামাই বাড়িতে তালপিঠা, তালবড়াসহ অন্যান্য খাবার তৈরি করে পাঠাতে ভোলেন না। তালের মওসুম আসলে ছোট-বড়দের মাঝে কোন ভেদাভেদ থাকে না। সকলেই এ তাল কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। দিবা-রাত্রি এ তাল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন। প্রতিযোগিতা করে তাল কুড়ানো যেন সকলকেই বাড়তি আনন্দ যোগায়। তবে উপজেলার হাট বাজারে পাকা তাল কিনতেও পাওয়া যায়। প্রতিটি তাল ১০ টাকা হতে ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বর্তমানে প্রতিকেজি গুড়ের দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা জানান তাদের অনেকে এবার চড়া দামের কারণে গুড় ছাড়াই পিঠা তৈরি করছেন। অনেকে এ সময় তাল কুড়ায় আঁটি মধ্যে শাঁস খাওয়ার লোভে। পাকা তালের রস চিপিয়ে বের করে নেয়ার পর আঁটি রেখে দিলে দু’মাসের মধ্যে আঁটির ভিতর মজাদার শাঁস তৈরি হয়। যা কাঁচা কিংবা দুধ চিনি দিয়ে রান্না করে বা অন্য উপায়ে সুন্দর ও মুখরোচক খাবার তৈরি করা যায়। এ তালগাছের দ্রুত বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেন। এলাকার প্রবীণ লোকজনের অনেকেই জানান সে বেশিদিনের কথা নয়। উপজেলার এমন কোন পুকুরপাড়, খাড়িরপাড়সহ বাড়ির আশপাশ ছিল না যে তালগাছ চোখে পড়ত না? বর্তমানে বিভিন্ন কারণে যেমন পারিবারিক দ্বন্দ, অভাব, অভিযোগ, সামাজিক অস্থিতিশীলতা আবার অনেকেই জানান তালগাছের কান্ড খুঁটি, রুয়াসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আর এ সব কারণে তালগাছ কাটা হচ্ছে। সে তুলনায় জনগণ এ তালগাছ রোপনে আশানুরুপ উদ্যোগী হয়ে উঠছেন না। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন হয়তো এলাকার পুরানো ঐতিহ্যে তালের অভাবে এক দিন হারিয়েই যাবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন