বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি ফিরোজ কামাল ফারুক) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে মোকছেদ নামে এক বখাটে কৃত্তনকারী হিন্দু এক তরুণীর (২৬ বছর) সাথে নিজের ছবি জুড়িয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। মুসলমান ছেলের সাথে আপত্তিকর ছবি পোস্ট হওয়ায় সমাজের মাতবররা তাদের একঘরে ও কৃত্তন পেশায় বাধা দিচ্ছে। সুদ্ধি করতে শালিস বসিয়ে মাতবররা মেয়ের চুল সামান্য কর্তন ও তার বাবাকে (নরেন্দ্রনাথ সরকার) মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার রায় দিয়েছেন। পরে নাপিত ডেকে এ রায় কার্যকর করা হয়েছে। ওই তরুণী শনিবার নন্দীগ্রাম থানায় শুধু তাদের কৃত্তন বন্ধ করার ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে মাতবররা ওই পরিবারকে কৃত্তন করার অনুমতি দিয়েছে। বিকালে ফোনে তরুণী রিপোর্ট না করার শর্তে বলেছেন, ডিস কোম্পানীর কর্মচারি তাদের বাড়ির ভিতর দিয়ে তার টানতে চেয়েছিল। এতে নিষেধ করায় সে তার ছবি মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দিয়েছিল। আর সমাজের মাতবররা উল্টো তাদের কৃত্তন পেশা বন্ধ এবং তার চুল কর্তন ও বাবাকে ন্যাড়া করে দেয়। নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মিমাংসা হওয়ায় ওই পরিবার মামলা করেনি। জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার গোপালপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা তরুণী তার বাবার সাথে বিভিন্ন পূজা ও অনুষ্ঠানে কৃত্তন (ধর্মীয় গান) করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পার্শ্ববর্তী জামালপুর গ্রামের ডিস কোম্পানীর কর্মচারি মোকছেদের (৪০) সাথে ওই তরুণীর সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন আগে তরুণীর বাড়ির পাশ দিয়ে ডিসের তার টানানো নিয়ে মোকছেদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ৭-৮ দিন আগে মোকছেদ ফেসবুক ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের দু’জনের আপত্তিকর ছবি পোস্ট এবং ছড়িয়ে দেয়। প্রতিবেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন টের পেয়ে ওই মেয়ে ও তার বাবার কাছে কৈফিয়ত চান। গত ২৫ ডিসেম্বর সোমবার রাতে এলাকায় শালিস ডাকা হয়। সালিশে প্রফুল্ল প্রামানিক, হিরণ, চঞ্চল, সুকুমার, গৌড়, ধনেশ্বরী প্রমুখ মাতবর উপস্থিত ছিলেন। মাতবররা সুদ্ধি করতে বাবাকে মাথা ন্যাড়া ও মেয়েকে মাথার চুল কেটে দেবার রায় দেন। এছাড়া তাদের কোন অনুষ্ঠানে কৃত্তন করা বন্ধ করে দেয়া হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে বাবাকে মাথা ন্যাড়া ও মেয়েকে চুলের গোড়ায় এক ইঞ্চি পরিমান কেটে দেয়া হয়। এদিকে কৃত্তন বন্ধ থাকায় ওই তরুণী শনিবার নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম সার্কেলের এএসপি মাহবুব হোসেন কাজল এবং নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে যান। এরপর মাতবররা ওই পরিবারকে কৃত্তন করার অনুমতি দেন। শনিবার বিকালে ওই তরুণী এ ব্যাপারে পত্রিকা বা টেলিভিশনে রিপোর্ট না করতে শর্তে জানান, কয়েকদিন আগে ডিসের তার টানা নিয়ে মোকছেদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তার আপত্তিকর ছবি মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয়। এতে তাদের দায়ি করে সমাজের লোকজন কৃত্তন পেশা বন্ধ এবং শালিসের রায় অনুসারে বাবার মাথা ন্যাড়া ও তার চুলের গোড়া থেকে সামান্য কেটে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে; তাই মামলা করা হবেনা। আর এ নিয়ে রিপোর্ট করার কোন প্রয়োজন নেই। পুলিশের নন্দীগ্রাম সার্কেলের এএসপি মাহবুব কাজল জানান, তারা শুধু কৃত্তন পেশা চালু করতে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। এলাকায় গিয়ে সমাজের লোকজনকে বুঝিয়ে তাদের কৃত্তন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। তবে মাতবরদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নন্দীগ্রামের থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন