বগুড়া সংবাদ ডট কম (মহাস্থান প্রতিনিধি এস আই সুমন) : পবিত্র হজ্বের পর মুসলিম উম্মার দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত হল তাবলিগ জামাতের ইস্তেমা। তাবলিগ অর্থ হলো প্রচার বা প্রসার আর জামাত মানে একত্রিত হওয়া। আল্লাহ তাআলার দ্বীন ও রাসূলের সুন্নাত দুনিয়াতে যাতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সকল মুসলমান যাতে আল্লাহতালা হয়ে যায় সেই লক্ষে বাংলাদেশে ঢাকার টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে প্রত্যেক বছর তাবলিগ জামাতের এই এস্তেমা অনুষ্ঠিত হয়। যা জন সাধারনের কাছে বিশ্ব এস্তেমা নামে পরিচিত। জায়গার সংকুলান না হওয়ার কারনে এবং সাথীভাইদের সুবিধার্থে জামাতের আমির বা মরুব্বিদের পরামর্শক্রমে এই এস্তেমাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দেশের ৬৪ টি জেলার মধ্যে প্রথম বর্ষে ৩২ টি জেলা ঢাকার টঙ্গীর এস্তেমাতে এবং বাকি ৩২ টি জেলা নিজ জেলার এস্তেমায় অংশ গ্রহন করবে। পরবর্তী বছরের অবশিষ্ঠ ৩২টি জেলা টঙ্গীর এস্তেমা ময়দানে অংশ গ্রহন করবে। তবে মুরুব্বিদের মাশাওরা বা পরামর্শ সাপেক্ষে কিছু সাথী দু,স্থানেই অংশ গ্রহন করতে পারবে। ৩২ টি জেলার মধ্যে আবার দুভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে ১৬টি জেলা ও দ্বিতীয় পর্বে ১৬ টি জেলা ঢাকার এস্তোমায় অংশ গ্রহন করবে। আর এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৮ তারিখ বৃহস্পতিবার ফজর নামাজ পর আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে ২য় বারের মতো বগুড়ায় শুরু হবে এস্তেমা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এস্তেমা ময়দানের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। শেষ মহুর্তে কিছু চটের ঝাউনি লাগানো কাছ চলছে। নাম প্রকাশ করতে উনুচ্ছক এক সাথীভাইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার এস্তেমাকে গিয়ে রয়েছে নানা আয়োজন। এটিকে কামিয়াবি বা সফল করার জন্য মহল্লায় ৭/১০দিনের ঠিয়ার জামাত মেহনত করছে। যাতে করে বেশিত থেকে বেশি লোক আল্লাহ রাস্তায় বের হয়ে নিজের ঈমান আমল শিক্ষা করবে। নিজের ভুল সংশোধন করতে পারে। আর মোয়ুত পর্যন্ত এই কাজের সাথে লেগে থাকলে আল্লাহ তাআলা ঈমানে সহিত তাহার মৃত্যু নছিব করবে। ঢাকার মুরুব্বিরা বগুড়ার মুরুব্বিদের এ্যাজাইম বা টার্গেট দিয়েছে প্রায় ২ শত জামাত আল্লাহ রাস্তায় বের করার। তাবলিগ জামায়াতের ভাষায় সম্পূর্ন ময়দানকে মোটামুটি ৩৪/৩৬ টি ক্ষেত্তায় ভাগ করা হয়েছে। শহরের ২৩ টি হালকা রয়েছে,এছাড়াও থানা ওয়ারী জামাত,পয়েন্টের জামাত,তাসকিলি জামাতসহ সর্বমোট ৩৬ টি ক্ষেত্র হতে পারে। তিন দিন ব্যাপী এই এস্তেমা ময়দানে মুসল্লি তথা সাথীদের সুবিধার্থে প্রায় ১ হাজার স্যানেটারী টয়লেট ও ৬০০ টি স্বাস্থ্যসম্মত প্রসাব খানার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি এস্তেমাকে কামিয়াবী বা সফল করার জন্য পৃথক পৃথক অজুখানা, গোসল খানা, রান্না জায়গা, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ঐষুধ, এ্যামবুলেন্স ব্যবস্থা থাকবে এবং সেই সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহির সদস্য পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে মোতায়ন থাকবে ইনশাআল্লাহ। আগামী শনিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে বগুড়া জেলার এস্তেমা। তবে মুরব্বিদের মাশায়ারা বা পরামর্শ সাপেক্ষে মোনাজাত আগে বা পরে হতে পারে।জেলা এস্তেমাতে মুসল্লীদের নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে বলে “বগুড়া সংবাদ” প্রতিনিধি এস আই সুমনকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন সূত্র জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন