বগুড়া সংবাদ ডট কম : (দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি আবু রায়হান) :বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো শহীদদের গণকবর সংস্কার করা হয়নি। দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে পদ্মপুকুর নামক স্থানে অবস্থিত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস যখন পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী সারাদেশে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তখন এই উপজেলার শান্তিপ্রিয় মানুষেরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায় নি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দুপচাঁচিয়া সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারন মানুষদের এই গণকবরে এনে হত্যা করেছিল তৎকালীন পাক হানাদার বাহিনী। সংস্কারের অভাবে দিন দিন নিশ্চিহৃ হয়ে যাচ্ছে শহীদদের এই গণকবর।
তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের আর্শ্বিন মাসের প্রথম দিকে উপজেলার তালোড়ায় অবস্থিত পাক সেনাদের ক্যাম্প থেকে রাতে অজ্ঞাতনামা ২ জন বাঙ্গালীকে আনা হয় এই পদ্মপুকুরে, তারপর পুকুরের দক্ষিণ পার্শ্বে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে আংশিক মাটি চাঁপা দিয়ে রাখা হয়, যার কারনে লাশ দুইটির মাথা ও পা বের হয়ে থাকে। পরের দিন সকালে আলোহালী গ্রামবাসী লাশ দুটি দেখতে পেয়ে মাটি চাঁপা দেয়। এই ঘটনার কয়েকদিন পর পাক সেনারা পুনরায় ৪ জন বাঙ্গালীকে এনে এই স্থানে হাত পা বেঁধে গুলি করে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রেখে যায়। পরের দিন সকালে আলোহালী গ্রামবাসী হাত পাতা বাঁধা ৪ টি লাশ উদ্ধার করে এই পুকুরের পাড়ে পুনরায় মাটি দিয়ে চাঁপা দেয়। নিহত ৬ জনের মধ্যে পরে নিহত ৪ জনের পরিচয় পাওয়া যায়। এরা হলেন, উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের কেউৎ গ্রামের মৃত-শরফদী মন্ডলের পুত্র মোঃ রবিয়া মন্ডল এবং রবিয়া মন্ডলের দুই পুত্র মকবুল হোসেন ও সালাম। অপরজন একই ইউনিয়নের পোড়াহার গ্রামের মৃত-তছির উদ্দিনের পুত্র তছলিম উদ্দিন।
এ ঘটনার বিষয়ে নিহত রবিয়া মন্ডলের পুত্র সূর্যতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা মাজেদুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আবেগপ্রত হয়ে জানান, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য পাক সেনারা তার বাবা সহ ২ ভাই কে নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে।
একই ইউনিয়নের পোড়াহার গ্রামের নিহত তছলিম উদ্দিনের ভাই সিংড়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধা তছলিম উদ্দিন অনুরূপ কথায় ব্যক্ত করেন।
একই সাথে তারা আরো জানায়, শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি চেয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে আবেদন করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। গনতান্ত্রিক পরিবেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত অবদানকারীদের মূল্যায়নে এই সরকার এগিয়ে আসবে বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ এই বিজয়ের মাসে পদ্মপুকুরে অবস্থিত এই গণকবর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়।
অবহেলায় ও অযতেœ আজও সার্বজনীন হয়ে উঠতে পারে নি এই বধ্যভূমি। এলাকাবাসী বিজয় দিবস সহ বিভিন্ন সময়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসে এই গণকবরে। এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেন শহীদদের আত্মত্যাগের এই গণকবর সংস্কারে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।বিজয়ের এই দিনে এলাকাবাসী মনে করছেন শহীদের এই গন কবর অচিরেই সংস্কার করবে কতৃকক্ষ।১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের আয়োজনে শহীদের এই গনকবর জিয়ারত ও পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহেদ পারভেজ,দুপচাঁচিয়া পৌর মেয়র বেলাল হোসেন,উপজেলা ভাইস চেয়্যারমান মোত্তালেব হোসেন মিন্টু,সখিনা বেগম,উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আব্দুল্লাহ প্রিন্স সহ বিভিন্ন রাজনৈতীক,সামাজিক সংগঠনের নেতৃবন্দ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন