bograsangbad_Logoপ্রদীপ ভট্টাচার্য্য শংকর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আসছেন। সেখানে তিনি বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করবেন। এরপর তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধি সমাজসহ বন্যা ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এটি তার নির্ধারিত সফরসূচি হলেও ২১ মাসের মধ্যে বগুড়ায় তার এটি তৃতীয়বারের সফর। আর এই নজিরবিহীন ঘটনা বগুড়ার প্রতি তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করছে বলে সর্বমহল থেকে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।

বিশেষ করে ২১ মাস আগে বগুড়ায় জনসমাবেশ থেকে তিনি যেসব ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় বগুড়াবাসী আশান্বিত হয়েছেন এই কারণেই যে, সেগুলো শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। আর তার সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু বগুড়াই নয় গোটা উত্তরাঞ্চলের চেহারা পাল্টে যাবে, দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে।

এক সময়ের শিল্পনগরীর পরিচয় ছিল বগুড়ার। দিনে দিনে ভারি শিল্পগুলো হারিয়ে গেলেও হালকা প্রকৌশল শিল্প বগুড়ার ওই পরিচয় কিছুটা হলেও টিকিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রে বগুড়ার অন্ততঃ ৭০ থেকে ৮০ ভাগ যোগান শিল্প সংশ্লিষ্ট বগুড়ার নাম কোনরকমে টিকিয়ে রেখেছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বগুড়া আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভা থেকে স্বউদ্যোগেই ঘোষণা দেন বগুড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বগুড়াবাসীর কাছে এটা যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার মত হয়ে দেখা দেয়। ওই জনসভা থেকে তিনি বগুড়াবাসীর জন্য এ রকম আটটি প্রতিশ্রুতি দেন, এর কোনটি ছিল দাবির মধ্যে, আবার কোনটি ছিল তার স্ব উদ্যোগের ঘোষণা। সবগুলো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুরু হয় তখন থেকেই। এর মধ্যে কোন কানে কাজ এগিয়ে গেছে অনেকদূর। বগুড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। ২০১৭ সালের মধ্যে সব মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে বগুড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ একটি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরপরই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বগুড়া থেকে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত স্থান নির্বাচন কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুরাতন সংসদ ভবন, ঢাকার স্মারক নং ১৭৯, তারিখ ঃ ২২/০৩/২০১৭ মূলে ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রত্যাশী সংস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছে। ২৫১ একর জমি। গত ২৮ মে তারিখে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২ (১৯৮২ সনে ২নং অধ্যাদেশ) এ বিধানমতে ৩ ধারার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী আপত্তিদাতা ভূমি মালিকদের শুনানী গত বুধবার সম্পন্ন করেছেন। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠনো হবে এবং পরে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত করা হবে।

এ ব্যাপারে বগুড়া-১ আসনের সংদস্য সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন বগুড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে গোটা অঞ্চলের কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে । দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ হবে। বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বিশ্বের দরবারে বগুড়া নতুন করে পরিচিতি লাভ করবে। দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে বগুড়াসহ গোটা উত্তরাঞ্চল। বগুড়া ফিরে পাবে তার হৃত গৌরব।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য, বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও বগুড়া চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন সিআইপি বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন, এটাই তার বড় প্রমাণ। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে বগুড়ায় বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। বগুড়ায় থেকে পণ্য বিদেশে রফতানি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো বঙ্গবন্ধু সেতু হতে বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ ।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক বগুড়া হতে সিরাজগঞ্জ, রায়পুর হতে সদানন্দপুর পর্যন্ত নতুন মিটারগেজ রেলওয়ে লাইন নির্মাণ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়। প্রকল্পের প্রণীত ডিপিপির ওপর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির সভায় প্রকল্পটির অনুকূলে বৈদেশিক সাহায্য অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির পর প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণ করা যেতে পারে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রণীত পিডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর এর সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি স্বারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটি ভারতীয় দ্বিতীয় লাইন অফ ক্রেডিট (এলওসি) এর আওতাভুক্ত করার জন্য ০৮/০৪/২০১৫ তারিখে চায়না রেলওয়ে নং-৩, ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটি ভারতীয় দ্বিতীয় লাইন অফ ক্রেডিট (এলওসি) এর আওতাভুক্ত করার জন্য ইআরডিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় মিটার গেজ রেলওয়ে লাইনের পরিবর্তে বগুড়া হতে সিরাজগঞ্জ জেলার শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৭৪ কিঃ মিঃ ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লাইন নির্মাণের লক্ষ্যে পিডিপিপি প্রণয়ন করে ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রেলপথ মন্ত্রণালয়ে এবং ওই বছরের ১৭ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। পুনর্গঠিত পিডিপিপি গত বছরের ২৪ আগস্ট অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি ৩য় ভারতীয় এলওসিতে অন্তর্ভূক্তির জন্য গত ৭ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইআরডিতে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। ডিপিপি প্রণয়ন চলমান রয়েছে বলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রকাশ থাকে যে প্রকল্পটি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ জেলার উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি চাবিকাঠি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সরাসরি কোন রেলপথ না থাকায় উত্তরাঞ্চলে থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোকে সান্তাহার ও ঈশ্বরদী হয়ে ১৮০ কিলোমিটর ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। অথচ বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ৭৫ কিলোমটিার রেলপথ নির্মিত হলে এ অঞ্চলের যাত্রীদের অতিরিক্ত একশ’ কিলোমিটার ভ্রমন করতে হবে না।

উত্তরাঞ্চেল থেকে খুব অল্প খরচে পণ্য, বিশেষ করে কৃষিপণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে। নতুন রেললাইন স্থাপিত হলে কাঁচা সবজি পরিবহনে আকাশ চুম্বি ট্রাক ভাড়া গুণতে হবে না। এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে । ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। যে কোন প্রতিক’ল পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিবহন হিসাবে উত্তরাঞ্চল থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ট্রেন ঢাকা যেতে পারবে।

বগুড়া জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি বগুড়াবাসীর মনে বিশাল আশা জাগিয়েছে। কারণ গত কয়েক বছরের পাবলিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার মধ্যে বগুড়ার শিক্ষার্থীরা মেধার দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রতিশ্রুতির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছরের ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর উক্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তৎপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন হতে আইনের খসড়া বিল আকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লিখিত আইনের খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যমুনা নদী ভাঙন রোধ ও নাব্যতা রক্ষায় নদী ড্রেজিং করার ব্যাপারে ও ঘোণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলার যমুনা নদীর ভাঙন রোধে ও নাব্যতা রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট বাংলাদেশ নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রথম পর্যায় ‘রিভার ম্যানেজমেন্ট ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, ফেজ -১’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য দফার মধ্যে ৩৪০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীতে ৭ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

একনেক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রস্তাবিত ‘রিভার ম্যানেজমেন্ট ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (পিএমআইপি) শীর্ষক প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে বগুড়া জেলায় অধিক্ষেত্রে যমুনা নদীর প্রায় ৭ কিরোমিটার ড্রেজিং করা হয় (ব্যয় ৩৪১ কোটি টাকা) এবং ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ১৬.৩০ কিলোমিটার. নদী তীর সংরক্ষণ কাজ এর সংস্থান রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে বগুড়া জেলাধীন অংশে যমুনা নদীতে অঙ্গসমূহ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বগুড়ায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপনের আশ্বাসও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ বিষয়ে গত বছরের ১৩ মার্চ বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে একাধিকবার পত্র যোগাযোগ করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ, বগুড়া কর্তৃক কিছুদিন পূর্বে ওই হাসপাতাল পরিদর্শন পূর্বক হাসপাতালের উত্তর পার্শ্বে দোতলায় (সাবেক মহিলা সার্জারী ওয়ার্ড) স্থান নির্ধারণ করেছে এবং উক্ত ওয়ার্ডে বার্ন ইউনিট স্থাপনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে। বগুড়া জেলা শহর থেকে মেডিকেল কলেজে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস বাস্তবায়নেও কাজ চলছে। উক্ত রাস্তাটি বগুড়া শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে বগুড়া প্রথম বাইপাস সড়কে (মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) মিলিত হবে। সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ২.৬৪ কি. মি.।

তন্মধ্যে দশমিক ৮১০ কিঃ মিঃ সড়ক ৪৫ফুট প্রশস্ততার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ১ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে যা পরিকল্পনা কমিশনে বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রি একনেক সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য রাস্তা ঘাট উন্নয়ন করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্তে রাস্তাঘাট উন্নয়নের আওতায় বগুড়া সড়ক বিভাগের অধীন ২টি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় (ক) ১৭.৫০ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট নন্দীগ্রাম (কাথম) কালিগঞ্জ রানীনগর সড়ক (খ) ৫০.৭৮ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট নন্দীগ্রাম (ওমরপুর) তালোড়া-দুপচাঁচিয়া-জিয়ানগর-আক্কেলপুর সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। গত ১১ মে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন কমিটির সভা হয়েছে। ডিপিপি সংশোধনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্তে রাস্তাঘাট উন্নয়নের আওতায় বগুড়া সড়ক বিভাগাধীন দুটি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে প্রণীত ডিপিপির উপর মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ যাচাই কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন প্রক্রিয়াধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তার এই প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নে ইতোমধ্রে কাজ শুরু করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বগুড়া জেলার ৮টি উপজেলা তথা বগুড়া সদর, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, কাহালু, শাজাহানপুর, আদমদীঘি, নন্দীগ্রাম ও শেরপুর উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণযোগ্য জমি চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ঢাকা বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সোনাতলা উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে। সোনাতলা স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। অপর স্টেডিয়ামগুলি দ্বিতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পভুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের ওই জনসভার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সোলার বিদ্যুৎ সুবিধাসম্পন্ন ২৫ হাজার মেট্টিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বহুতল খাদ্যগুদামের উদ্বোধন করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সান্তাহারে আসেন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’র (জাইকা) সহযোগিতায় প্রায় ২শ’ ৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে খাদ্য অধিদফতর এই আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাইলোটি নির্মাণ করে। এটি সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হবে। যেখানে খাদ্যশস্য সারাবছর একটি নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বিধায় এতে খাদ্যগুণ অটুট থাকবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সাইলোটি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বলেন, তার সরকার খাদ্য মজুদ বাড়ানো এবং কৃষকদের নার্য্যমূল্য নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ দেশ শতভাগ খাদ্য মজুদের সক্ষমতা অর্জন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এরপর সেখানে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবন ও হলরুম, শাহজাহানপুর থানা ভবন, শাহজানপুর সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম ভবন, শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সোনাতলা উপজেলার সিচারপাড়া-৩ গুচ্ছগ্রাম, সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, আদমদিঘী উপজেলায় সোলার প্যানেলযুক্ত পাতকুয়ার মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস ভবন এবং বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ ২০টি সদ্য নির্মিত উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

এছাড়া তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি মহাসড়কে খৈলসাকুড়ি সেতু, বগুড়া-সারিয়াকান্দি মহাসড়কে জয়ভোগা সেতু, বগুড়া-সারিয়াকান্দি মহাসড়কে হাটফুলবাড়ী সেতু, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সোনাতলা উপজেলায় ১০ কি. মি. রাস্তা, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ১০ কি.মি রাস্তা, বগুড়া প্রেসক্লাব ভবন এবং সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উম্মোচন করেন।প্রধানমন্ত্রীর এসব উদ্যোগের সুফল এখন বগুড়াবাসী ভোগ করছে। তাই তার দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যেগোলো ইতমোদ্যে বাস্তবায়ন কা শুরু হয়েছে; সেগুলো সম্পন্ন হলে পাল্টে যাবে গোটা উত্তর জনপদের চেহারা। অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে এককালের অবহেলিত বলে পরিচিত উত্তরাঞ্চল।

দৈনিক করতোয়া থেকে নেওয়া।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন