বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে মকবুল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। মকবুল হোসেন উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইদিঘী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আলহাজ্ব কমর উদ্দিনের পুত্র। রোববার সকালে সোনাইদিঘী দক্ষিনপাড়ায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করে পোষ্টমটেমের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিহতের স্বজনেরা জানান, গত ৪-৫ বছর পূর্বে মকবুল হোসেন প্রতিবেশী মৃত হোলা সাকিদারের মেয়ে শিউলী (৩০) কে দ্বিতীয় বিয়ে করে একই গ্রামের দক্ষিনপাড়ায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। ২ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে প্রথম স্ত্রী তার স্বামীর পুরাতন বাড়িতেই বসবাস করছে। দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যেত্র বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করায় প্রথম পক্ষের কেহ আপত্তি করেনি।
নিহতের বড়ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্র্রীকে নিয়ে অন্য বাড়িতে থাকায় তেমন খোঁজ-খবর নেয়া হয়ে উঠে না। রোববার সকালে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। তার বাবার সাথে কারো কোন বিবাদ ছিল না। লোহার সাবল জাতিয় কিছু মাথার চাদিতে ঢুকিয়ে দিয়ে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার কারন জানতে চ্ইালে তিনি আরো জানান, হত্যার সাথে তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলী জড়িত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদের কথা শোনা গেছে। বাবার কাছ থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী জমি লিখে নিলে পরে শালিশ বৈঠকে তা আবার বাবাকে ফেরত নিয়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধায় তার এক ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সবার সামনে বলে তোমার বাবাকে যদি কেউ মেরে ফেলে বা মারা যায় তাহলে কিন্তু দোষারোপ করিও না। আরো বলে তোমার বাবার স্বভাব-চরিত্র দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মকবুল হোসেনের এমনিতেই কারো সাথে কোন ঝগড়া বিবাদ ছিল না। দ্বিতীয় স্ত্রী, জমি-জমা, স্বভাব-চরিত্র নিয়েও এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। মেয়ে মানুষের উপর কু-দৃষ্টি দেয়ার অভ্যাস তার ছিল। এরকম ঘটনায় গ্রাম্যভাবে শালিশ বৈঠকও হয়েছে।
থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, স্বজনদের দেয়া খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পোষ্টমর্টেমের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের মাথার উপরের অংশে লোহার রড জাতিয় কিছু ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। হত্যার কারন জানতে চাই তিনি জানান, বিভিন্ন ধরনের কথা কানে এসেছে। সন্দেহের তালিকায় সবাই রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী, প্রথম স্ত্রী, সন্তান সহ কেহই সন্দেহের বাহিরে নেই। নিহতের ছেলে বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন