বগুড়া সংবাদ ডট কম (রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন, সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি) : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ভিক্ষুক শূন্য দেশ গঠনের জন্য উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের তাজুরপাড়ার পরিকল্পনাকারী শান্তিকামী মোঃ শাহানূর মিঞা “কল্যাণকর অজানা নতুন সুত্র সন্ধানী প্রতিষ্ঠান” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছেন। যে প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডের মাধ্যেমে ভিক্ষুক শূন্য দেশ গঠনের পরিকল্পনা গঠন করে তিনি ব্যাক্তিগত অর্থে লিফলেট বিতরন করে পৌছে দিচ্ছে সবার কাছে। এর এরকম উদ্যগ কে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুশিল সমাজ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হলে সংবাদকর্মী রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন শান্তিকামী শাহানূরে সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ভিক্ষুক শূন্য দেশ গড়তে চাই, আর এই বিষয়ে সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগীতা চাই। এসময় তিনি একটি লিফটও সংবাদকর্মীর হাতে ধরিয়ে দেন। তার সেই লিফলেটে কী লেখা ছিলো তা পাঠদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
আপনি যদি নিজ দায়িত্বে প্রতি সপ্তাহে দুইটি করে টাকা দান বা ভিক্ষা দিতে চান তাহা হলে ভিক্ষুক শূন্য বাংলাদেশ গঠন প্রকল্পের ভিক্ষা বা দানকারী সদস্য তালিকায় নাম ভুক্ত করুন এবং বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা বা দান সংগ্রহ বাক্স থাকবে , উক্ত বাক্সতে ভিক্ষা দিন। পাপ করা খুব সহজ কারণ সেটা শয়তানের কাজ, কিন্তু সৎ কর্ম করা খুব কঠিন কাজ কারণ শয়তান সেখানে বাঁধা দেয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহতায়ালার কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বা রাগের উদ্রেক সৃষ্টিকারী কাজ হলো স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ও ভিক্ষা করা। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ভিক্ষা করার কাজে নিজেকে অভ্যস্ত বানায়, সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকরবে এমন অবস্থায় যে, তার মুখ মন্ডলে এক টুকরা গোশতও থাকবে না। বুখারি ও মুসলিম। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে লোক ধনী হওয়ার উদ্দেশ্যে লোকদের কাছে ভিক্ষা চাইবে, সে নিজের চেহারাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য ক্ষতযুক্ত করে দিল। সে জাহান্নামে গরম পাথর ভক্ষণ করিতে বাধ্য হবে। বুখারি ও মুসলিম। বর্তমান আমরা যে ভাবে ফকিরকে ভিক্ষা দিচ্ছি এতে অবচেতন ভাবে ভিক্ষুক থাকার প্রেয়ণা দিচ্ছি, তার কর্ম ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছি, তার সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছি। ছোট শিশু যাকে দেখে আমি আবেগ প্রবণ হয়ে তার হাতে টাকা দিচ্ছি, এতে অবচেতন ভাবে তার ব্রেনে আমি প্রোগ্রাম করে দিচ্ছি যে তাকে পৃথিবির মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে বাঁচতে হবে। আমাদের ভিক্ষা দেওয়ার কারনে আজকে হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। কেহ তার হাত হারাচ্ছে, কেহ পা, কেহ চোখ, কাহারো চেহারায় এসিড দগ্ধ করা হচ্ছে। কেননা কতিপয় নিষ্ঠুর সন্ত্রাস চক্র এই অসহায় মানুষগুলোকে জিম্মি করে ভিক্ষা বৃত্তির ব্যবসা করছে। মানুষকে নির্মমভাবে পঙ্গু করছে যেন তাদেরকে দেখা মাত্র আমরা তার সহায়তায় দু চার টাকা দেয়ে দেই। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অনেক দুরদর্শী ছিলেন যে কারনে তিনি ভিক্ষা দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন। এক টাকা দান করে কোটি টাকার সওয়াব পাওয়া যায় তেমনি কোটি টাকা ভিক্ষা দিয়ে পাপ না করেও অনেক পাপ করা যায়, যদি সে টাকা অসৎ কাজে ব্যয় করা হয়। ফকির, ভিক্ষুক, ভিখারি, সন্ন্যাস, ভিক্ষা, সাদাকা , দান, বৃত্তি, কাহাকে বলে ? ( ফকির – মুসলমান সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুক বা যাহারা নিজে কাজ না করিয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া চাহিয়া খায়) (ভিক্ষুক- ভিক্ষালদ্ধ বস্তু দ্বারা জীবন যাপনকারী) ( ভিখারী – ভিক্ষাজীবী, ভিক্ষুক, ভিক্ষাপ্রার্থী ) (সন্ন্যাস – সম্পুর্ন বর্জন (কর্ম সন্ন্যাস) সংসার বাসনা ত্যাগ, সংসার ত্যাগ পূর্বকআল্লাহর চিন্তায় জীবন যাপন ও ভিক্ষান্নে প্রাণ ধারণ) (ভিক্ষা – প্রার্থনা : দানরুপে প্রদত্ত বস্তু : দান) ( সাদাকা – মমতা জড়িত সেবাই সাদাকা , সাদাকা শব্দটির সাধারন বাংলা অর্থ হল দান) (দান স্বত্বত্যাগ পূর্বক অন্য কাহাকেও অর্পণ, বিতরন, উৎসর্গ, ত্যাগ বুঝায়) ( বৃত্তি ভিক্ষা রুপ পেশা) আপনার ভিক্ষা বা দানের টাকা যদি ভাল কাজে ব্যবহার হয় তবে সওয়াব পাওয়ার আশা করা যাবে।
বর্তমান আমাদের করণীয়, খরসা পরিকল্পনা : (১)পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম , ইউনিয়ন , থানা , জেলার ভিক্ষুক তালিকা তৈরী করা এবং ভিক্ষুকদের জীবন বিত্তান্ত সংগ্রহ করা । (২) ভিক্ষুক ভিক্ষা করে যাহাকে যাহাকে খাওয়ায় ও পরায় উক্ত ভিক্ষুক পরিবারের সদস্যদের ‎চিহ্নিত করিয়া তাহাদের জীবন বিত্তান্ত সংগ্র্রহ করা ।(৩) কোন ভিক্ষুক পরিবারে কি পরিমান অর্থ প্রয়োজন তাহা স্থির করা । (৪) ভিক্ষা দানকারী সদস্য চিহ্নত করা । (৫) ভিক্ষার টাকা কাহার কাছে থাকবে তাহা চিহ্নিত করা । (৬) ভিক্ষার টাকা বণ্টন ও সংরক্ষন পদ্ধতি তৈরী করা । (৭) স্বেচ্ছাসেবী সদস্য চিহ্নিত করা । (৮) বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা সংগ্রহ বাক্স স্থাপন করা । (৯) ভিক্ষুক শূন্য বাংলাদেশ গঠন প্রকল্প রক্ষী চিহ্নিত করন। (১০) ভিক্ষা একত্রিত করিয়া ভিক্ষুকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টনের পক্ষে মানুষকে সচেতন করা ।
জনগনের ভিক্ষা বা দানের সাপ্তাহিক দুই টাকা দ্বারা পরিচালিত ভিক্ষুক শূন্য বাংলাদেশ গঠন প্রকল্প: জনগণের ভিক্ষার সাপ্তাহিক দুটি করে টাকা বিভিন্ন ভাবে একত্রিত করিয়া তাহা বিভিন্ন ভাবে ভিক্ষুকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করিয়া , পর্যায়ক্রমে ভিক্ষুক শূন্য বাংলাদেশ গঠণ করিয়া বিশ্বের কাছে ভিক্ষুক শূন্য বাংলাদেশ নামে পরিচিতি লাভ করার লক্ষে যাত্রা শুরু করিলাম । ভিক্ষুকদের অভাব পুরণ হওয়ার পর যদি অবশিষ্ট টাকা থাকে তাহা দিয়া শর্তসাপেক্ষে যাহারা গরিব মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের সহযোগিতা করা হবে এবং অন্যান্য কল্যাণকর কাজ করা হবে ।
ভিক্ষুকদের ভিক্ষা বা দানের টাকা যে ভাবে বণ্টন করা হবে: (১) ভিক্ষুক ভিক্ষা করে যাদের খাওয়ায় বা পরায় তাদেরকে ভিক্ষুক পািরবারের সদস্য হিসাবে গন্য করা হবে (২) ভিক্ষুক পরিবারের যে পরিমানে খাদ্র , কাপড় , চিকিৎসার প্রয়োজন হবে দেওয়া হবে । (৩) প্রকল্পে মনোনিত ভিক্ষুক প্রতিক , ভিক্ষুক পরিবারের সদস্যদের বাধ্যতামুলক ব্যবহার করিতে হইবে । (৪) সবল ভিক্ষুকগণ , যে কোন স্থানে , যে যেমন ভাবে , যে যতটুকু শ্রম দিতে পারবে তাহাকে সেই টুকু শ্রম দিতে হবে ( ৫) শিক্ষা লাভ করার উপযোগিদের শ্রেণী মোতাবেক বাধ্যতা মুলক শিক্ষা লাভ করিতে হইবে । (৬) যাহারা শ্রম দিতে পারিবেনা তাহাদেরকে শ্রম দিতে বাধ্য করা হবে না ।
ভিক্ষুক শূন্য বাংলাদেশ গঠন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে , লাভ হবে যাহা: ভিক্ষুকদের অভাব যখন পুরন হবে , তখন ভিক্ষুককে বলা যাবে ভিক্ষা করা যাবে না , এবং ভিক্ষা যাহাতে না করে সেই ব্যবস্থা করা যাবে । জনগনের সপ্তাহে দুই টাকার বেশি ভিক্ষা দিতে হবে না । কোন একদিন সবল ভিক্ষুদের লজ্জাবোধ সৃষ্টি হবে তখন ভিক্ষার টাকা দিতে চাইলেও ভিক্ষার টাকা নিবে না । প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের কষ্ট করে ভিক্ষা করতে হবে না । ভিক্ষা করা যাহাদের পেশা বা নেশা কোন একদিন উক্ত পেশা বা নেশা বন্ধ হয়ে যাবে । ভিক্ষুকদের ছেলে মেয়েরা ক্ষুদায় কাঁদবে না এবং ভাল শিক্ষা লাভ করতে পাবে । ভিক্ষুকদের শ্রম কাজে লাগানো যাবে বা ভিক্ষুক নিজের শ্রম নিজে কাজে লাগাতে পারবে । ভিক্ষুকদের শ্রম নষ্ট হবে না । যাহাদের টাকায় এই প্রকল্প পরিচালিত হবে তাহারা একটি ভাল কাজ করলো এবং সৃষ্টি কর্তার কাছ থেকে ভাল কাজের পুরুস্কার পাবে । স্বদেশের সুনাম হবে ।
যাহাদের কাছে টাকা বা সম্পদ থাকবে তাহদের নিম্ন গুনাগুণ থাকতে হবে: যাহাদের অবৈধ নারি , টাকার উপর লোভ নাই । যাহার ক্ষমতার লোভ নাই । যাহার সাংসারীক অভাব নাই । যাহার মধ্যে হিংসা , লোভ , স্বজনপ্রীতি , মোহ নাই । যে নিঃসার্থে সেবা করিতে ইচ্ছুক । সত্যই মুক্তি দেয় , দ্ধন্দ্ব নয় যুক্তি ভাল যে এই কথা বিশ্বাস করে এবং সত্য কথা বলে , ভীতু নয় , বিবেক বর্জিত কাজ করে না , ভিক্ষার টাকা রাখতে ইচ্ছুক বা সক্ষম ।
সারিয়াকান্দির শাহানূর তার এই উদ্যগ সরকারের দৃষ্টি আকর্শন করেছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন