বগুড়া সংবাদ ডটকম (নামুজা প্রতিনিধি, আনোযার হোসেন) : বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউপির পাল্লা পাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সামাদ এর স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপনের দাবী জানান শহীদ পরিবার সহ এলাকাবাসী। অনুসন্ধানে জানা যায়, নামুজা ইউপির পাল্লা পাড়া গ্রামের মৃত আব্বাছ আলী পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সামাদ। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়ার দীর্ঘ ৪৬ বছর পেড়িয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্থাপন করা হয়নি স্মৃতি স্তম্ভ। বীর মুুক্তিযোদ্ধা শহীদ সামাদ এর ঘনিষ্ট বুড়িগঞ্জ ইউপির বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান গনি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সহকয়েক জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নিকট থেকে জানা গেছে। ১৯৭১ সালে ঐতিহ্যবাহী নামুজা উচ্চ বিদ্যালয়ে এস.এসসি পরিক্ষা দেওয়ার পূর্ব মুহুতে, সামাদ স্বাধীনতা যুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ভারতে যাবার সময়,বর্তমান জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার হিসমি নামক স্থানে, রাজাকারদের হাতে আটক হয় এবং খান সেনাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। যুদ্ধে ব্যবহৃত জীব গাড়ীর পিছে রশি দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে রেখে রাস্তার উপর দিয়ে গাড়ী চালিয়ে সামাদকে মেরে ফেলা হয়। শহীদ সামাদ এর ভাই ছাইফুল ইসলাম ও সহিদুল ইসলামের নিকট জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকারি ভাবে কিছু ঢেউটিন অনুদান হিসাবে আসে। এর পর থেকে আমরা শহীদ পরিবার হিসাবে তেমন কোন অনুদান পাইনি। তবে প্রতি বছরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে সামান্য কিছু অর্থ পাওয়া যায়। যুদ্ধের ৪৬ বছর পেড়িয়ে গেলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সামাদ এর কোন স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়নি। তবে সরকারি ভাবে কোন স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন না হলেও শহীদ সামাদ স্মরনে নামুজায় স্থাপন করা হয়েছে ২টি ক্লাব, ১টি সড়ক ও নামুজা উচ্চ বিদ্যালয়ে বানানো হয়েছে অডিটোরিয়াম। এছাড়াও বগুড়ার মুক্তির ফুলবাড়ী স্মৃতিস্তম্ভের তালিকায় শহীদ সামাদের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। অতি সত্তর নামুজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সামাদ এর স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের জন্য দাবী জানান, শহীদ পরিবারসহ কয়েক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অত্র এলাকার বিভিন্ন মহল।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন