বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি মো: ফিরোজ কামাল ফারুক) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ম্যানেজার শাহীন আলমের বিরুদ্ধে ২৪ ব্যক্তিকে চাকরি ও ঋণ দেবার নামে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা সোমবার বিকালে অফিস পরিদর্শনে যাওয়া উর্ধতন তিন কর্মকর্তাকে কারসহ আটক করে তাদের টাকা দাবি করেন। সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় দায়ি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জনগণকে ওই টাকা ফেরত দেবার শর্তে মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তারা হলেন গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার শাজাহানপুর উপজেলার রবিবাড়িয়া গ্রামের আবদুল্লাহেল বাকী, জয়েন্ট এরিয়া ম্যানেজার লতিফপুর এলাকার ইউসুফ আলী এবং তার স্ত্রী এরিয়া ম্যানেজার মিম আকতার।
নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম, সাইদুর রহমান, মোজাহার আলী, মোস্তফা হোসেন, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ জানান, গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার শাহীন আলম মোট ২৪ ব্যক্তিকে চাকরি ও ঋণ দেবার নামে মোট দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সম্প্রতি তিনি গাঢাকা দেন ও মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এতে ওইসব ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হন। এদিকে সোমবার বিকালে উর্ধতন কর্মকর্তা আবদুল্লাহেল বাকী, ইউসুফ আলী এবং মিম আকতার নন্দীগ্রাম অফিস পরিদর্শনে আসেন। ভুক্তভোগীরা টের পেয়ে তাদের তিনজনকে প্রাইভেট কারসহ (ঢাকা-মেট্রো-গ-৩১-৩২৮১) অফিসে আটক করেন। এছাড়া তাদের টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত যেতে দিবেন না বলে জানিয়ে দেন। সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ তিন ইন্সুরেন্স কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। নন্দীগ্রাম দক্ষিণপাড়ার জাহিদুল ইসলাম জানান, গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ম্যানেজার শাহীন আলম তার মত ২৪ ব্যক্তিকে চাকরি ও ঋণ দেবার নামে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সকলে ঋণ নিয়ে ও সংসারের জিনিসপত্র বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। এরপর ম্যানেজার শাহীন আলম ফোন বন্ধ রেখে গাঢাকা দিয়েছেন। গাড়িসহ উর্ধতন তিন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছিল। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা দেবার আশ্বাস প্রদান কেেরন। একারণে আমরা থানায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার আবেদন করলে পুলিশ তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।
এবিষয়ে থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর তিন কর্মকর্তা গ্রাহকদের সাথে সমঝোতা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস প্রদান করে। পরে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা থানায় তাদের ছেড়ে দেয়ার আবেদন করেন। সে মোতাবেক তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন