বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে সুস্বাদু চালতার আচার ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে সহস্রাধিক নিম্ন আয়ের মানুষের হয়েছে আত্মকর্মসংস্থান। পশ্চিম বগুড়ার একমাত্র বৃহৎ চালতার আড়ৎ সান্তাহারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, ফরিদপুর, বরিশাল জেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে ট্রাক বোঝাই করে এসব চালতা আসে সান্তাহারে। এখান থেকে উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চালতা নিয়ে তা দিয়ে সুস্বাদু আচার তৈরী করে বিক্রয় করে।
সান্তাহারের বুহৎ চালতার আড়ৎদার কামাল হোসেন, মামুন হোসেন জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চালতার ব্যাপক উৎপাদন এবং ওই অঞ্চলে চালতার তেমন জনপ্রিয়তা না থাকায় এসব চালতা ট্রাক বোঝাই হয়ে উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ মাস এই চালতার পুরো মৌসুম। এ সময়ে উত্তরাঞ্চলের ক্ষুদ্র আয়ের ব্যবসায়ীরা ফেরি করে অথবা ভাংড়ি মালের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে এসব চালতা বিক্রয় করে। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে লাভ ভাল হওয়ায় এর ব্যপক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। মৌসুমের প্রথম দিকে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চালতা সান্তাহার নিয়ে আসতে হয়। প্রতি ট্রাকে একযোগে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চালতা আসতে পারে। এক ট্রাক চালতা বিক্রয় হতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ দিন। প্রতিটি চালতার বিক্রয় মূল্য মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। যার প্রতিটি আচারোপযোগি করে বিক্রয় করা যায় ১৫ থেকে ২০ টাকায়। ৮০’র দশকের শেষের দিকে উত্তরাঞ্চলে এই চালতার প্রচলন শুরু হলে প্রথমে এলাকাবাসী জঙ্গলী ফল হিসেবে অবজ্ঞা করলেও বর্তমানে এর স্বাদে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। তাই নিজেদের বসত বাড়ীতে অথবা পুকুর পড়ে চালতার চারা রোপন শুরু করেছে। অনেকের বাগানে ইতিমধ্যে চালতা ধারা শুরু হয়েছে। চালতা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী ফল। রক্ত আমশার জন্য পাকা চালতা আচার বিহীন খেলে উপকার পাওয়া যায় বলে সান্তাহারে চালতা আড়ৎদার জানিয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন