বগুড়া সংবাদ ডট কম : ফিরোজ কামাল ফারুক : মাঠের মধ্যে চট বিছিয়ে রোদে পাপড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার গুন্দইল গ্রামের ৩০ টি পরিবার। রুটির মতো গোলাকৃতির শতশত পাপড়ে মাঠটি ঢাকা পড়েছে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে যেন পাপড়ের মাঠ। গুন্দইল গ্রামে গেলে এমন দৃশ্য প্রতিদিনকার। ওই গ্রামের প্রায় ৩০ টি পরিবার বাড়িতেই পাপড় তৈরি করেন। এর সঙ্গে যুক্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্য। ফলে গ্রামটি পরিচিত পাচ্ছে পাপড় গ্রাম নামে।
গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ময়দার আটা, লবণ, খাবার সোডাসহ বিভিন্ন মশলা দ্বারা তৈরি করা হয় এই পাপড়। পরে তা ছোট ছোট টুকরা করে রুটির মতো গোলাকৃতি, তবে অনেক পাতলা করে কাঠের পিঁড়িতে বেলে রোদে শুকিয়ে তেলে ভাজিয়ে বিক্রির উপযোগী করা হয়। এই গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পাঁপড় তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা ঘরের বারান্দা ও উঠানে শিশু থেকে বৃদ্ধরাও পাপড় তৈরি করছেন। গোল হয়ে বসে এক সঙ্গে পাপড় বেলে স্তুপ করা হচ্ছে। তা আবার পাশের খোলা মাঠে নিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। পাঁপড় শিল্প বাংলার ঐতিহ্যের একটি আদি নাম। ‘পাপড়’ শব্দটির সাথে পরিচিত নন এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্ট সাধ্য। অধিকাংশ লোকই খাবোরের বিভিন্ন উপকরণের সাথে পাঁপড় খেতে ভাল বাসেন। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আড্ডায় পাপড় না হলে মনে হয় যেন আড্ডাটা পূর্ণতা পাচ্ছে না। ঈদ, বৈশাখী মেলা, পূজার অনুষ্ঠানেসহ বিভিন্ন মেলাতে এই পাপড়ের জুড়ি নেই।
পৌরসভার গুন্দইল গ্রামের গৃহবধু কবরী রাণী, প্রনতি রানী, লিটন মহন্ত জানান, বছরজুড়েই জীবিকা নির্বাহের জন্য পাপড় তৈরির কাজ করা হয়। এই ব্যবসায় পুঁজির প্রয়োজন ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা। এক কেজি ময়দার ১০০ পিস পাঁপড় হয়। বিক্রি হয় দুই থেকে তিন টাকায়। পাপড় বিক্রি করে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উর্পাজন হয়। যা দিয়ে সংসার চলে। ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার পাপড় বিক্রি করে সংসার চালান। নন্দীগ্রামের পাপড় জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন