বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে কৌশলে অপহরন করে মুক্তিপণ দাবীর পর অভিযান চালিয়ে মহিলাসহ অপহরন চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত ২ ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত-অছিমুদ্দীনের পুত্র মুকুল শেখ (২৮), বীরপলি গ্রামের আব্দুর কাদেরের মেয়ে জয়নব @ জয়া (৩০), ঢাকইর গ্রামের মৃত আবুল সরকারের মেয়ে জোসনা (৩৬), সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর উপজেলার মৃত ইমান শেখের মেয়ে রিনা খাতুন (২২), গোবিন্দপুর সদরের আব্দুস সালমের মেয়ে রানী (৩৮)।
উদ্ধারকৃত ২ অপহৃত হলেন, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার শিমুলতলা গ্রামের মৃত-খতিবুল্লাহ বেপারির পুত্র ধান চাল ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম (৫২) ও একই গ্রামের মৃত-নুরুল হোসেনের পুত্র আমজাদ হোসেন (৫২)। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে অপহরণ চক্রের সদস্য মুকুল শেখ মোবাইল ফোনে নিজেকে ধান-চাল ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে চাল বিক্রির কথা বলে গাইবান্ধা জেলার ধান চাল ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমকে শাজাহানপুরের শাকপালা মোড়ে আসতে বলে। আব্দুল হালিম সরল বিশ্বাসে দুপুরে চাল ক্রয়ের উদ্দেশ্যে আরেক ধান চাল ব্যবসায়ী তার চাচাতো ভাই আমজাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে শাকপালা মোড়ে আসে। এরপর শাকপালা মোড় থেকে চাল ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ৪/৫ জন এসে কৌশলে তাদেরকে নন্দীগ্রাম টিএমএসএস অফিসের ২য় তলায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। এসময় অপহরন চক্রের মহিলা সদস্যদের সাথে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৬ লক্ষ টাকা দাবী করা হয় এবং মোবাইল ফোনে আব্দুল হালিমের ভাগিনা শাহ আলম আকন্দকে টাকা আনতে বলে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে আব্দুল হালিম ও আমজাদ হোসেন কে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা। পরবর্তিতে শাজাহানপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হলে শনিবার রাত ১১টা থেকে পরদিন রোববার ভোর ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আধুনিক প্রযু্িক্ত ব্যবহার করে অপহৃতদের উদ্ধার করে অপহরণ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
থানার এসআই জাহাঙ্গীর কবীর জানান, অপহরনের বিষয়টি জানার পর অপহরণকারীদের টাকা দেওয়া হবে জানালে তারা নন্দীগ্রাম পেট্রোল পাম্পের সামনে টাকা নিয়ে আসতে বলে। কথামত গভীর রাতে টাকা নিয়ে পাম্পের সামনে গেলে সেখানে মুকুল টাকা নিতে আসলে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং অপহৃতদের সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়। এরপর মুকুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিজ বাড়ি থেকে জয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং জয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপহরন চক্রের অপর সদস্য রানী, রিনা খাতুন ও জোসনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনায় আব্দুল হালিমের ভাগিনা শাহ আলম বাদি হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন