বগুড়া সংবাদ ডটকম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি ফিরোজ কামাল ফারুক) : অষ্টম শ্রেনির এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুসলিয়ে অনৈতিক মেলামেশার পর সম্পর্ক প্রত্যক্ষান করায় বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছে প্রেমিকা স্কুলছাত্রী পিংকি রানী (১৪)। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রাম দাসপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। তবে প্রেমিকার অবস্থানের খবরে পালিয়েছে প্রতারক প্রেমিক রমেন চন্দ্র (২০)। মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে শান্ত করলেও যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দফায় দফায় গ্রাম সালিশে মোটাংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিছু গ্রাম্য মাতব্বররা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রাম দাসপাড়া গ্রামের রবিন চন্দ্র অরফে কামালের কন্যা পিংকি রানী (১৪) দাসগ্রাম হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেনিতে পড়াশুনা করে। স্কুলে যাতায়াত কালে স্কুলছাত্রী পিংকি রানীর একই গ্রামের মৃত নরেশ চন্দ্রের ছেলে রমেন চন্দ্রের (২০) সাথে দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রেমিক রমেন চন্দ্রের প্রতারনার ফাঁদ বুঝতে পারেনি পিংকি। বিয়ের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে প্রতারক প্রেমিকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের ফাঁদে পা দেয় স্কুলছাত্রী পিংকি। দীর্ঘদিন অনৈতিক মেলামেশার পর প্রেমের সম্পর্ক প্রত্যাক্ষান করে প্রতারক রমেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক রমেন চন্দ্রের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করে প্রতারিত স্কুলছাত্রী পিংকি রানী। ঘটনাটি মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এখবর পেয়ে থানার এসআই আলী আকবরসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে শান্ত করে। এসময় কৌশলে সটকে যায় প্রেমিক রমেন। স্কুলছাত্রী পিংকি রানী জানায়, আমাকে বিয়ে করবে বলে সম্পর্কে জড়িয়েছে রমেন। আমাকে নিয়ে পালিয়েও গিয়েছিল। এখন সে আর বিয়ে করতে চাইছে না। আমি কার কাছে যাব, কোথায় গেলে বিচার পাব। স্থানীয়রা জানান, স্কুলছাত্রী পিংকি রানীকে বুঝিয়ে অনশন ভেঙে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। পরের দিন থেকে আবারও দফায় দফায় অনশন করে পিংকি। আর সেই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গ্রাম্য মাতব্বররা। মোটাংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ বলেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুসলিয়ে অনৈতিক মেলামেশার পর সম্পর্ক প্রত্যক্ষান করার ঘটনা সত্য। মেয়ে পক্ষের লোকজন এসেছিল, তাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছি।
এপ্রসঙ্গে থানার এসআই আলী আকবর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উত্তেজিত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত রমেনকে পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন