বগুড়া সংবাদ ডট কম (দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি আবু রায়হান) : বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় হিমাগারে সংরক্ষিত করে রাখা আলুর বাজারে ধস নেমেছে। ২৫দিনের ব্যবধানে সব জাতের আলুর দাম বস্তা প্রতি ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দিন দিন আলুর দাম নিম্নমুখী হচ্ছে। একদিকে আলু রোপনের মাঠে পানি জমে থাকায় আগাম জাতের আলু রোপন করতে না পারা এবং দাম কম হওয়ার কারণে হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু নিচ্ছে না।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, আলুর দাম কম হওয়ার কারণে তারা এবার খুবই লোকসানের মুখে পড়েছে। বর্তমান দামে আলু বিক্রি করলে খরচের টাকা উঠবে না বলে বেশির ভাগই কৃষকই হিমাগার থেকে আলু তুলতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
হিমাগার কর্তৃপক্ষরা জানান, দুপচাঁচিয়ায় দুইটি হিমাগার রয়েছে। বরাবরই নভেম্বর মাসের শেষ দিকে সংরক্ষিত আলু কৃষকরা তুলে বিক্রি ও প্রয়োজনীয় আলু বাড়িতে নিয়ে যান। এবছর দাম কম হওয়ায় ও শেষ মুহুর্তে বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে থাকায় হিমাগার হতে আলু তুলতে ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে আলু সংরক্ষের ভাড়া ও ওই আলু বিক্রি করে আলু রোপন করতে খরচ নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে গত বছর দুপচাঁচিয়ায় ৬হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। উৎপাদনও হয়েছিল ভালো। গতকাল সোমবার দুপচাঁচিয়া-আক্কেলপুর রোডস্থ সাহারা কোল্ডস্টোরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবস্তা ফাটা পাকড়ি আলু ১হাজার হতে ১হাজার ৫০টাকা, বটপাকড়ি ৮’শ টাকা, ডায়মন্ড ৬’শ ৫০টাকা থেকে ৭’শ টাকা, স্টিক ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা, রোমানা ৮’শ টাকা দরে বেচা কেনা হচ্ছে।
উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল বাসেদ জানান, তারা প্রতিবছরই ৬০ থেকে ৭০ বস্তা আলু হিমাগারে রাখেন। গত বছর কিছুটা দাম পেলেও এবার আলুর এ দামে তারা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষক আজাহার আলী আরও জানান, আলুর এ ধরনের দর পতনের কারণে আগামীতে আর আলু রোপন করবেন কি না তা ভাববার বিষয়।
কৃষকের পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীও আলু রেখেছিল হিমাগারে। তাদের মধ্যে পাইকপাড়া গ্রামের আলু ব্যবসায়ী সবুজ মন্ডল বলেন, লাভের আশায় আলু কিনে দুপচাঁচিয়ার দুই হিমাগারে প্রায় ১৫শ বস্তা আলু রেখেছিলাম। বর্তমানে যে বাজার তাতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তিনি।
একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানায়, প্রতিবার ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা হতে অনেক পাইকার আলু কিনার জন্য আসতো। কিন্তু এবার তারাও তেমন আর আলু ক্রয়ের আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আলুর ক্রেতা অনেকাংশে কমে গেছে।
সর্বোপরী কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারিভাবে আলু ক্রয়ের বিশেষ ব্যবস্থা করা না হলে কৃষকদের শুধু পরিশ্রমই করতে হবে লাভের মুখ দেখতে পাবে না। এক্ষেত্রে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এখনও খুচরা বাজারে আলুর দাম বেশি। পাইকারী বাজারে কম। খুচরা বাজারের সঙ্গে পাইকারী বাজারের কোন মিল নেই। এরকম অস্বাভাবিক দামের পাথর্ক্যরে চলতে থাকলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন