বগুড়া সংবাদ ডট কম (সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত বেশ কিছু ইউনিয়ন দু’দফা বন্যা মোকাবেলা করে ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মানুষ গেলো বন্যায় বিপদসীমার ১২৬সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত পানির ধকল কাটিয়ে আবার শুরু করেছে নতুন জীবন। এই বন্যায় অনেকের শেষ স্বম্বল, গবাদি পশু, বসতভিটা, সংরক্ষিত খাদ্য, ধাঁন, চাল, গম সেই সাথে ৫শ ১৫ হেক্টর জমির আউশ ধান সহ অনেক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মানুষের।

এখন কেমন আছেন তারা, সম্প্রতি সারিয়াকান্দির কাজলা, চালুয়াবাড়ী, বোহাইল সহ যমুনা নদীর পূর্বদিকে অবস্থতি ইউনিয়ন গুলোতো গেলে দেখা যায় নতুন করে ফসলের খেত বীজ তলা, ধান, ভুট্টা, মরিচ সহ অনেক রকম ফসল ফলাতে শুরু করেছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। যমুনার মহনায় জেগে উঠা চরে নতুন করে ঘর-বাড়ী নির্মাণ করে ভালোই জীবন যাপন করছেন তারা। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সহযোগিতা পেয়েছে তারা। সম্প্রতি কৃষক পূর্ণবাসনের অংশ হিসাবে ২৫শ ৭০জন কৃষক সরিষা বীজ, ১১শ ৮০জনকে গমের বীজ, ৫ হাজার ২শ জনকে আমন ও আউশ ধানের বীজ, ঘর মেরামতের জন্য টিন এবং নগদ অর্থ। এছাড়াও আলু, চিনাবাদাম, সার, সেচ সহ সবকিছু মিলে ১৫ হাজার কৃষককে পূর্ণবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান, বগুড়া ১ আসনের সংসদ সদস্য কৃষিবীদ আব্দুল মান্নান। অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঋণ বিতরণ কমিটির সভাপতি করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা গুলো মেরামত করতে একটু দেড়ি হলেও খুব তারাতারি তা হয়ে যাবে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারোওয়ার আলম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন- সম্প্রতিক বন্যায় নারচী ইউনিয়নের বুদেরভিটা এলাকায় কাজ শুরু হয়ে গেছে। আরো যে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা আছে সেগুলোর কাজও শুরু হয়ে যাবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুজ্জামান জানান- বর্তমানে চর এলাকায় ২ হাজার হেক্টর ভুট্টা, সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর মরিচ, ৫০০শ হেক্টর শাক-সবজি, ১৫০০শ হেক্টর ডাল জাতীয় ফসল ও ২শ ৫০ হেক্টর বীজ তলা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আমাদের আরো লক্ষ্য মাত্রা আছে যা করা হবে। বেহাইল, ইন্দুরমারা, বিরামের পাঁচগাছি, শালিখাঁ, চক্রতিনাথ,তালতলা সহ নদীর পূর্ব ধারে বসবাস করা মানুষ গুলো বর্তমানে দেখা দিয়েছে নতুন একটি সংকট। যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। মুখ থুবরে পড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষি খাত বর্তমানে সবল। শীতকালীন বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে ঘরবাড়ী নির্মাণ করে সংকট কাটিয়ে ভালোই জীবন যাপন করছেন পূর্ব বগুড়ার চর এলাকার মানুষ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন