বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা বঞ্চিত মরহুম মুক্তিযোদ্ধা নুরুন নবী (৬৮)’র শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক মহল। সমবেদনা জানাতে শুক্রবার রাতে উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়ায় মরহুমের বর্তমান বসতবাড়িতে ছুটে যান দৈনিক করতোয়া পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাজেদুর রহমান সবুজ, দৈনিক ভোরের দর্পন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুর রহমান মিঠু, দৈনিক বাংলা বুলেটিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম পান্না, দৈনিক মুক্তবার্তা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মাছুম হোসেন, দৈনিক মুক্ত জমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এসময় যারা নিজের জীবন বাজী রেখে দেশ স্বাধীন করেছে। যাদের জীবনের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। জাতি সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানের শেষ সম্মানটুকুও না দেয়ায় চরম ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শোকাহত পরিবারের সদস্যগন।
উল্লেখ্য, বুধবার বাদ আসর উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা নুরুন নবী (৬৮)’র দাফন সম্পন্ন করা হয়। মরহুম মুক্তিযোদ্ধা নুরুন নবী বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তালিকাভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ভারতের দার্জিলিংয়ে মুক্তিনালা মুজিব ক্যাম্পের ৬নং সেক্টরের প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন তিনি। তার আদি আবাসস্থল বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শাকদহ গ্রামে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক ছিলেন। গ্রামের বাড়ির জমি-জমা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেলে বগুড়া সদরের নারুলীতে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। ১ বছর পূর্বে নারুলীর বসতবাড়ি বিক্রি করে শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়া গ্রামে জমি কিনে বসবাস করে আসছেন। তার ছেলে সামছুল আরেফিন তুহিনও একজন পুলিশের কনষ্টেবল। বর্তমানে তিনি রংপুর সদর থানার অধিনে কর্মরত আছেন। শারিরিক অসুস্থ্যতার কারনে মাঝে মধ্যে তিনি ছেলে তুহিনের রংপুরের বাসায় থাকতেন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা মৃত্যু বরণ করেন। অন্য কোথাও লাশ দাফনের সুযোগ না থাকায় ওইদিনই রংপুর থেকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে লাশ শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আসার পথে শাজাহানপুর থানার সামনে এ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে থানার ওসিকে তুহিন তার ও তার বাবার পরিচয় দিয়ে মৃত্যুর বিষয়ে জানান। কিন্তু ওসি সাহেব দায় এড়িয়ে বিষয়টি ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে জানাতে বলেন। বাবা মারা যাওয়ার শোক এবং এলাকায় নতুন হিসেবে ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে সারিয়াকান্দিতে বাবার সহযোদ্ধাদেরকে বিষয়টি জানান তুহিন। বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদার কোন আয়োজন দেখতে না পেয়ে পুনরায় সারিয়াকান্দির মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করলে শাজাহানপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান তারা। কিন্তু শাজাহানপুর থানার ওসিকে পুনরায় বলা হলে কেউ কোন যোগাযোগ করেনি বলে জানান তিনি। পরে বাধ্য হয়ে মাগরিবের নামাজের একটু আগে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ছাড়াই মরহুম মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন