বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ছাড়াই নুরুন নবী (৬৮) নামের একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বাদ আসর উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়। অপরদিকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মরহুম মুক্তিযোদ্ধার স্বজনেরা।
নিহতের ছেলে সামছুল আরেফিন তুহিন জানান, তার বাবা নুরুন নবী বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তালিকাভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে তার বাবা ভারতের দার্জিলিংয়ে মুক্তিনালা মুজিব ক্যাম্পের ৬নং সেক্টরের প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। তাদের আদি আবাসস্থল বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শাকদহ গ্রামে। বাবা নুরুন নবী বাংলাদেশ পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক ছিলেন। গ্রামের বাড়ির জমি-জমা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেলে বগুড়া সদরের নারুলীতে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। ১ বছর পূর্বে নারুলীর বসতবাড়ি বিক্রি করে শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়া গ্রামে জমি কিনে বসবাস করে আসছেন। সামছুল আরেফিন তুহিনও একজন পুলিশের কনষ্টেবল। বর্তমানে তিনি রংপুর সদর থানার অধিনে কর্মরত আছেন। শারিরিক অসুস্থ্যতার কারনে মাঝে মধ্যে বাবা-মা রংপুরে তার বাসায় থাকতেন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা মৃত্যু বরণ করেন। অন্য কোথাও লাশ দাফনের সুযোগ না থাকায় ওইদিনই রংপুর থেকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে লাশ শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর জায়দারপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আসার পথে শাজাহানপুর থানার সামনে এ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে থানার ওসিকে তার ও তার বাবার পরিচয় দিয়ে মৃত্যুর বিষয়ে জানান। কিন্তু ওসি সাহেব দায় এড়িয়ে বিষয়টি ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে জানাতে বলেন। বাবা মারা যাওয়ার শোক এবং এলাকায় নতুন হিসেবে ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে সারিয়াকান্দিতে বাবার সহযোদ্ধাদেরকে বিষয়টি জানান তুহিন। বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদার কোন আয়োজন দেখতে না পেয়ে পুনরায় সারিয়াকান্দির মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করলে শাজাহানপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান তারা। কিন্তু শাজাহানপুর থানার ওসিকে পুনরায় বলা হলে কেউ কোন যোগাযোগ করেনি বলে জানান তিনি। পরে বাধ্য হয়ে মাগরিবের নামাজের একটু আগে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ছাড়াই মরহুম মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মরহুমের স্ত্রী মমতাজ বেগম অশ্রসিক্ত কন্ঠে বলেন, লাশ নিয়ে থানার সামনে পুলিশকে মৃত্যুর খবর জানানোর পরও শেষ সম্মান টুকুও পেলেন না তার মুক্তিযোদ্ধা স্বামী। এই যদি হয় একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য তাহলে এই লজ্জা কার? রাষ্ট্রিয় মর্যাদা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, উনাদেরকে ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে মুক্তিযোদ্ধা না তা কিভাবে বুঝবো। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিশ্চিত করলেই না বুঝতে পারবো।
শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মান্নান ফকির জানান, এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তাছাড়া নুরুন নবী নামে তালিকা ভুক্ত কোন মুক্তিযোদ্ধা তার উপজেলায় নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, নুরুন নবী নামে শাজাহানপুর উপজেলায় কোন মুক্তিযোদ্ধা নেই। এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি কিছুই জানি না।
প্রয়োজনে মরহুম মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সামছুল আরেফিন তুহিন। ০১৭১৫-৮১৯১৭৭

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন