bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : মৎস ভান্ডার নামে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘিতে দেশীয় মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জমা-জমি সহ আবাদি পুকুরে কীটনাশক ব্যবহার করায় জলাশয়গুলো থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে বসেছে। এ অঞ্চলের খাল-বিল ও পুকুরের পানি কমতে শুরু করার পাশাপাশি শুরু হয় মৎস নিধন কার্যক্রম। উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস শিকারীদের হাত থেকে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছও রেহাই পায় না। ফলে নদী-নালা, খাল-বিল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে।
বর্ষা মৌসুমে আত্রাই নদী, রক্তদহ বিল,খাড়ী ও হাওয়ারে ভরা পানি থাকলেও খরা মৌসুমে একবারেই পানি থাকে না এ সব নদী, খাড়ি ও বিলে। এরই মধ্যে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধনের ফলে মাছের বংশ বিস্তার হতে পারে না। শুস্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই খাল-বিল, খাড়ী ও নদীর পানি কমতে থাকে, আর এ সময় মৎস জীবিরা পর্যায়ক্রমে মৎস শিকার শুরু করে। আদমদীঘির সরকারী খাস পুকুরের সংখ্যা অনেক। ব্যক্তি মালিকানাতে রয়েছে প্রায় কয়েক হাজার পুকুর। বর্তমানে অত্র উজেলাতে যা মাছ চাষ হচ্ছে, অত্র এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হচ্ছে। বর্তমানে অত্র উপজেলার বিলুপ্ত প্রায় মাছের মধ্যে রয়েছে টেংরা, পিয়া, গুচি, সাটি, পাবদা, ব্যালা, শৌল, মাগুর কানচ, টেপা, বোয়াল, আইড়, চেলা, খলসা, ভেদা, পাতাসি, বালুচরি, দাড়ি, গাগট, বাস পাতাড়ি, চিতল, নুনা ইত্যাদি। বর্তমানে হটাৎ এ সব মাছ বাজারে উঠলেও দাম হয় অনেক বেশি । আর এসব দেশী মাছ বাজারে জেলেরা বিক্রির জন্য জন্য আনলেও তা সাধারন মানুষের পক্ষে এক পলক দেখা ছাড়া কেনার সামর্থ থাকে না। মৎস চাষিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাংগাস, রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, সরপুটি, মিনারকাপ, মৃগেল, গেলাসকাপ পুকুরে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করে ব্যাক্তি মালিকাধীন পুকুর, বিল খাড়িগুলো সংস্কার করে মৎসচাষিদের সহায়তা করে উৎসাহিত করা হলে এ অঞ্চলে মৎস চাষের বিপুল সম্ভবনা দেখা দেবে। এ অঞ্চলে নদী, খাড়ি, বিল ও পুকুরে মাছের অভয়ারণ্য সৃষ্ঠির পাশাপাশি ধানের জমি সহ চাষকৃত পুকুরে কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলে আগামীতে দেশী মাছ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন