বগুড়া সংবাদ ডটকম (সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) :সারিয়াকান্দিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তায় চলতে অনেক সময় অপচয়ের পাশাপাশি সঠিক সময়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এছাড়াও খানাখন্দকে ভরা রাস্তায় চলাচল দুঃসাধ্য হওয়ায় সন্ধ্যার পরেই গ্রামের রাস্তা-ঘাটে পথ চলাচল বন্ধ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঙ্গালী ও যমুনা নদীতে ব্যাপক পানি বৃদ্ধি পায়। দু’দফা ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও কৃষি, মৎস্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ৫ কিঃমিঃ পাকা রাস্তা। ক্ষতির পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকা। একই বিভাগের ৫৯কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তার বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

এ বিভাগে টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৭৭লক্ষ টাকা। অপর দিকে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রায় ৫৯ কিঃমিঃ গ্রামীণ জনপদের রাস্তা-ঘাট ছাড়াও একটি ব্রীজ মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। টাকার অংকে এ বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের বীজ-সার দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই সব ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা-ঘাট সংস্কার ও মেরামতের তেমন কোন গতি নেই। এইজন্য স্থানীয়রা প্রতিদিন চরম দূর্ভোগ পোঁহাচ্ছেন। ১৪টি ব্রীজের সংযোগ সড়ক বিধ্বস্ত হওয়ায় স্কুল গামী ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষেরা বহু কষ্টে প্রতিদিন পথ পাড়ি দিচ্ছেন। কাজলা ইউনিয়নের জামথল চরের জাকির হোসেন জাকি, সুনচু, আব্দুল খালেক বলেন, বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার পড় আমরা বন্যার পরে অনেক কষ্টে তরিতরকারী, শাক-সবজি উৎপাদন করেছি। কিন্তু সময় মত সেগুলো বাজারে নিয়ে যেতে না পারায় সঠিক মূল্য পাচ্ছি না। আবার কোন দিন বিক্রি না হলে আস্তে আস্তে তানষ্ট হচ্ছে। তারা আরো বলেন, রাস্তা-ঘাটের মধ্য খানাখন্দ ও গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা রাতেরবেলা পথ চলতে পারছি না। কারণ পথ চলতে ওইসব গভীর খাদে পরে দূঘর্টনার আশঙ্কা থাকে। এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ সারওয়ার আলম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আমরা ব্রীজের সংযোগ সড়ক সংস্কার করে দেওয়ায় স্কুল গামী ছাত্র-ছাত্রীদের দূর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা সমূহের মেরামত করার জন্য কাবিটা ও টিআর খাতের প্রথম পর্যায়ের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জনদূর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্প যাচাই বাছাই চলছে। অতিসত্বর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত, সংস্কার করে গ্রামীণ জনপদের যাতায়াতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন