বগুড়া সংবাদ ডট কম (সোনাতলা সংবাদদাতা মোশাররফ হোসেন) : বগুড়া জেলার সোনাতলায় সিএনজি চালক হাসান (৩০) হত্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে থানায় স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, বগুড়া সদরের সেউজগাড়ি এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হাসান প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৯ জুলাই/১৭ ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে সিএনজি গাড়ি নিয়ে ওইদিন সকাল ৯টার দিকে বাড়ির বাইরে যায়। পরদিন বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তুফেরেনি। ফলে হাসানের অভিভাবক চিন্তিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাদের পরিচিত বগুড়া সদরের কৈচর এলাকার বাবু’র ছেলে সুজন তাদেক মোবাইল ফোনে জানায় হাসান সোনাতলার বালুয়াহাটে গিয়েছে। এরপর সোনাতলায় খুঁজতে এসে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসানের লোকজন বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তারা হাসানের লাশ সনাক্ত করেন। তিনি আরো জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ সোনাতলা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের হাবিবকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে যে, হাবিবের মোবাইল সেট ও সিম গত দেড় বছর আগে বালুয়াহাটে হারিয়ে যায়। তা একই উপজেলার দক্ষিণ আটকরিয়া গ্রামের মিনু মিয়া পড়ে পায়। ওই সেট ও সিম বড় বালুয়া গ্রামের বেলাল ও নান্নু ব্যবহার করে আসছিল। ওই মোবাইল ফোনে বেলাল,নান্নু ও মিনু হাসানকে বালুয়াহাটে ডেকে নেয়। হাবিরের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বেলাল তার স্ত্রী শাপলা বেগম ও মিনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী গত ৬ নভেম্বর পাবনা জেলা শহর থেকে দুইজনকে গ্রেফতার ও হাসানের সিএনজি গাড়িটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেলাল,মিনু ও শাপলা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশকে জানায় গত ২৯ জুলাই রাতে হাসানকে সোনাতলায় ডেকে নিয়ে আসে বেলাল,নান্নু ও মিনু। হাসান বালুয়াহাটে পৌছিলে তাকে নান্নুর সৎ মায়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ার মধ্যে হাসানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। হাসান ঘুমিয়ে গেলে তাকে তুলে নিয়ে বালুয়া গ্রামস্থ আবুল কালামের ধানক্ষেতের মধ্যে নিয়ে তাকে বেলাল,নান্নু ও মিনু মিলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। হত্যাকারীরা হাসানের সিএনজিটি বালুয়াহাটস্থ ঠান্ডুর গ্যারেজে রাখে। হত্যাকারীরা ভোরে গ্যারেজ থেকে সিএনজিটি নিয়ে পরবর্তীতে পাবনায় গিয়ে বিক্রি করে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওসি (তদন্ড) জালাল উদ্দিন,এসআই সোহেল রানা ও এসআই মানিক।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন