বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি ফিরোজ কামাল ফারুক) : তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশশিল্প। গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। ফলে অভাবের তাড়নায় এশিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ছুটছেন। তবে শত অভাব-অনটনের মধ্যেও উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈতৃক পেশাটি ধরে রেখেছেন।
উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চাকলমা গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ১০/১২জন পরিবার সংসারের কাজ শেষ করে পুরুষ-নারী কারিগররাই বাঁশ দিয়ে এসব পণ্য বেশি তৈরি করেন। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব বাঁশ শিল্পের কারিগররা তাদের পূর্বপুরুষের এ পেশা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেও হিমশিম খাচ্ছেন। দিন দিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের মূল্য যে ভাবে বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এ শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য। যার কারণে কারিগররা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক সময় উপজেলার ঘরে ঘরে বাঁশের তৈরি সামগ্রীর কদর ছিল অনেক। কিন্তু অপ্রতুল ব্যবহার আর বাঁশের মূল্যবৃদ্ধি পাওয় ায় বাঁশশিল্প আজ হুমকিতে রয়েছে। বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা, চালন, টোপা, খলি, পাখা, মাছ ধরার পলিসহ বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র গ্রাম অঞ্চলের সর্বত্র বিস্তার ছিল। এক সময় যে বাঁশ ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যেত সেই বাঁশ বর্তমানে বাজারে কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। কিন্তু সেই সঙ্গে বাড়েনি এসব পণ্যের দাম। চাকলমা গ্রামের লালু চন্দ্র প্রামানিক, নিতাইসহ অনেকে জানান, এগ্রামের হাতে গোনা আমরা কয়েকটি পরিবার এখনও এ কাজে নিয়োজিত আছি। শিল্পটির উন্নতির জন্য যদি সরকারিভাবে ঋণ দেয় া হয় তাহলে এ শিল্পের কারিগররা স্বাবলম্বী হবে আর হারিয়ে যাওয়া শিল্পটিকে রাখা সম্ভব হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন