bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) :বগুড়ার ধুনটের গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজে ভুয়া কাগজ দাখিল করে ১৭ বছর যাবৎ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যাক্তি। শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে নিয়োগ বানিজ্য এবং উন্নয়নের নামে অনুদান এনে আত্বসাত করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এবিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দাবীদার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ২০০০ সালে ইসলামী শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে ওই কলেজে নিয়োগের জন্য আবেদন করে। নিয়োগ বোর্ড ওই সময় আমজাদ হোসেন নামের এক বক্তিকে নিয়োগ দেন। শিক্ষামন্ত্রনালয়ের ১৯৯৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী দুটি তৃতীয় শ্রেনী কিংবা তৃতীয় বিভাগ থাকলে প্রভাষক হিসেবে আবেদনের জন্য প্রযোজ্য হবে না। কিন্ত তারপরও মাদ্রাসা বোর্ডের দুটি তৃতীয় শ্রেনীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে ওই জাহাঙ্গীর আলম আবেদন করে। একারনে পরিপত্র অনুযায়ী তার আবেদনই গ্রহনযোগ্য নয়। তারপরেও তিনি ওই গোসাইবাড়ী এলাকায় জমি দাতা এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার সাথে যারা যুক্ত ছিলেন তাদেরকে বাদ দিয়ে দুর দুরান্তের তার নিজস্ব লোকদের নিয়মবহির্ভুতভাবে সভাপতি ও সদস্য করে ভুয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেজে নিয়োগ বানিজ্য এবং উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে আসছে।
আবেদনকারী মোঃ লুৎফর রহমান জানান, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলম আবেদনই করতে পারেনা। এমপিওভুক্ত হলে তার এই ভুয়া পদও থাকবেনা। তাই, সে কলেজটি যেন এমপিওভুক্ত না হয় সেজন্য নিজের পদকে ধরে রেখে তার মত করে কমিটি করে চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে বিগত ২০০০ সালের ২৭ মে নিয়োগবোর্ড মো: আমজাদ হোসেন কে নিয়োগ প্রদান করে। ওই নিয়োগ পরীক্ষায় মো: জাহাঙ্গীর আলম দ্বিতীয় হয় এবং তার আবেদনে দু’টি তৃতীয় বিভাগ ছিল। ওই সময়ের পর কোন পরিপত্র তার অন্য পথে নিয়োগের বেলায় আর বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই।
অন্য এক আবেদনকারী রবিউল ইসলাম রবি জানান, আমার বাবা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ শুকুর মাহমুদ। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাড়ে তিন বিঘা জমি দিয়েছে। কিন্ত ভুয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম আমার নিয়োগপত্র থাকলেও আমাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয়নি। আমার মত আরো অনেককে স্বাক্ষর করতে না দিয়ে তাদের বিপরীতে নিয়োগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
গোলাম মোস্তফা ঠান্ডু নামের আরেক অভিযোগকারী বলেন, নারী শিক্ষা প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি হওয়া উচিত। কিন্ত ভুয়া ভারপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থের জন্য এটা করতে দিচ্ছে না।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রোজিনা খাতুন বলেন, গত ১৬ অক্টোবর অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ জানান, ৩১ অক্টোবর গোসাইবাড়ী ডিগ্রী কলেজে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজনদের হট্রগোলের কারনে সেখানে তদন্তের পরিবেশ ছিল না। পরে ৫ নভেম্বের নির্বাহী কর্মকর্তার কনফারেন্স রুমে তদন্তের জন্য দুপক্ষকে ডাকা হয়েছে। কাগজ অনুযায়ী তদন্ত হবে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিপত্র অনুয়ায়ি তার নিয়োগ হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন