বগুড়া সংবাদ ডট কম : শহীদ জিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে হাতুরি দিয়ে মারপিট ঘটনা ও পরবর্তীতে শ্রমিক লীগ নেতা সহ ওই কলেজের কয়েকজন শিক্ষককে আসামী করে থানায় মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসী বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় গত ১ নভেম্বর প্রথম আলো পত্রিকা ও যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বরখা¯তকৃত অধ্যক্ষ মোঃ মাহতাব উদ্দিনের যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ঐ সব সংবাদে অধ্যক্ষের বক্তব্য হলো গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.এইচ. আজম খানকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের ২য় দফায় সভাপতি না করায় প্রথমে কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসী দ্বারা তাকে আঘাত করে নেওয়া হয়। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। একজন বহিস্কৃত অধ্যক্ষের দ্বারা কখনোই এডহক বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব নয় । আরো উল্লেখ্য যে, বরখা¯তকৃত অধ্যক্ষ মোঃ মাহতাব উদ্দিন ২০১৫ সালে ডিগ্রী পর্যায়ে নিয়োগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার সাবেক সভাপতি মোছাঃ মমি আকতার এর মাধ্যমে পুনরায় একই পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে অসহায় যুবকদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রকৃত ঘটনা হলো গত ৩১অক্টোবর বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১ পার দিকে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন বে-আইনীভাবে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ভেঙ্গে কক্ষে প্রবেশ করলে আমি তাঁকে বাধা দিই এবং তাঁকে বের হয়ে যেতে বলি। অবশেষে তিনি কক্ষে তালা মেরে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারলাম ডিগ্রী পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন নিখোজ থাকার কারণে কে বা কাহারা তাঁকে মারপিট করছে, তাহা আমরা অবগত নই। এমতবস্থায় গত ১ গাবতলী মডেল থানায় বরখা¯তকৃত অধ্যক্ষের স্ত্রী একটি মামলা দায়ের করে আমার কলেজের ৫ জন শিক্ষককে আসামী করা হয়েছে। যার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। কেননা মারপিটের সাথে আমার শিক্ষকরা জড়িত ছিলেন না। এব্যাপারে প্রশাসনিক এবং সাংবাদিকবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এ ব্যাপারে ওই কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন বলেন,যে সভাপতি আমাকে বরখাস্ত করেছে তার ডিও লেটারটিই ছিল ভূয়া। এ কারণে হাইকোর্ট তার সভাপতির পদ বিলুপ্ত করে দেন । ফলে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির রীতি অনুযায়ী কোন কমিটি বিলুপ্ত হলে নতুন কমিটি সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের কমিটি ওই ম্যানেজিং কমিটির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। আর এ কারণেই পূর্বের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোছাঃ মমি আকতার কে দিয়ে পুনরায় কাজকর্ম চালু করা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন