বগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) :বগুড়ার ধুনটে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বাঙ্গালী নদী থেকে অনিয়মতান্ত্রিক ও আইন বহিভূতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীতে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাদে বালু উত্তোলনের কারনে শতশত বিঘা কৃষি জমি ও বাসতবাড়ী সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
জানাগেছে, ধুনট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বথুয়াবাড়ী, এলাঙ্গী ইউনিয়নের বিলচাপড়ী ও নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন যাবত বাঙ্গালী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অনিয়মতান্ত্রিক ও আইন বহিভূতভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারনে ওই সকল এলাকার শতশত বিঘা কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আরো শতশত বিঘা কৃষি জমি, বসতবাড়ী ও শ্মশানঘাট সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এবিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থে মামলা (নং-১৪৫১৫/২০১৭) দায়ের করে। ওই মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে গত ২২ অক্টোবর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ী, বিলকাজুলী, শাকদহ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। একই সাথে বাঙ্গালী নদীতে অবস্থিত বাথুয়াবাড়ি বালু মহল বগুড়া জেলাধীন বালু মহলের তালিকা থেকে কেন বাদ দেয়া হবে না এবং বাঙ্গালী নদীকে আইন বহির্ভূত ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন থেকে রক্ষার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না এবং কেন উল্লেখিত নদীর পরিবেশ ব্যবস্থা ও নদীর তীরবর্তী কৃষি জমি, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতি সাধনের দায়ে ইজারাদারের কাছ থেকে কেন ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারী করে আদালত।
মামলার বিবাদীরা হলেনÑভুমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক, বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পরিবশে অধিদপ্তরের (রাজশাহী বিভাগ) পরিচালক, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ধুনটের সহকারি কমিশনার (ভুমি), ধুনট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং বালু উত্তোলনকারী বথুয়াবাড়ি গ্রামের গোলজার হোসেন।
বথুয়াবাড়ী গ্রামের আবু হানিফ, আব্দুস সোবাহান ও আব্দুর রশিদ জানান, বালু উত্তোলনের কারনে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তাদেরই প্রায় ৪ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া তাদের আরো ৩ বিঘা জমিও ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, বাঙ্গালী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিলেও প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা তা মানছে না। তারা নদীতে অসংখ্য ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ৯০-১০০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। সেই বালু ট্রাকে করে বিক্রি করছে বিভিন্ন এলাকায়। বালু বহনকারী ট্রাক চলাচলের কারনে সড়কের বিভিন্ন স্থানেও ভেঙ্গে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি হাতে না পেলেও ইজারাদারকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন