বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়া শাজাহানপুরের জামুন্না পল্লী বন্ধু হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষকে দূর্নীতির অভিযোগে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির লোকজন কর্তৃক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে জামুন্না স্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পুলিশকে খবর দেয়ার পরও পুলিশ গিয়ে উদ্ধার না করায় অধ্যক্ষের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি শেরপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম জানান, কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি পুকুরে মাছ চাষ করে আসছে। কলেজ ক্যাম্পাসে লাগানো গাছ কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কেটে বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিতে ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এসমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলায় এবং কলেজের এডহক কমিটি গঠন করায় সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজে এলে মারপিট করা সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় বুধবার সকালে কলেজে এলে সভাপতি ও তার লোকজন নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তাকে কোন মারপিট করা হয়নি। অধক্ষ্যের অনিয়ম ও দূর্নীতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না। কলেজ সবে মাত্র পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। কলেজের ১৩ জন স্টাফের নিয়োগের কাগজপত্র সহ কলেজের প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র তিনি জিম্মী করে রেখেছেন। যার কারনে কলেজের স্বীকৃতি লাভের পরবর্তি সকল প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কলেজ ফান্ডের ২০ লক্ষাধিক টাকার কোন হিসাব না দিয়ে তিনি মেয়াদের আগেই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে গোপনে এডহক কমিটি গঠন করেন। যদিও যাদেরকে নিয়ে এডহক কমিটি করা হয়েছে তারা সবাই পদত্যাগ করেছেন। তাছাড়া চলমান কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় আদালতে রীট করা হলে আদালত কমিটি বহাল রেখেছেন। পুকুরে মাছ চাষ ও গাছ কাটার যে কথা বলা হচ্ছে সেই বিষয়গুলি নিয়ে বসার কথা বলা হলেও তিনি বসেন না। ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ কেটে কলেজের বেঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। কিছু গাছ বিক্রি করে মিস্ত্রি বিল দেয়া হয়েছে। তিনি দিনের পর দিন কলেজে অনুপস্থিত থেকে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ করে কলেজ ধ্বংশের পায়তারা করছেন। এসমস্ত বিষয় গুলি নিয়েই অধক্ষ্য স্থানীয় লোকজনের তোপে মুখে পড়েছেন।
স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলী এবিষয়ে কোন কথা বলতে না চাইলেও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন্নাহার, সহকারী শিক্ষক সুবাস চন্দ্র দাস, মোকসেদ আলী, মোস্তবা আলী সহ অনেকেই অধ্যক্ষের অনিয়মিত পাঠদানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তাছাড়া এটা পুলিশের কোন বিষয় না। কলেজের টাকা মেরে খাওয়া নিয়ে অধ্যক্ষ ও সভাপতির দ্বন্দ। এটা শিক্ষা অফিস ও ইউএনও সাহেব দেখবেন। ইউএনও মহোদয়কে বলা হয়েছে। উনি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন