বগুড়া সংবাদ ডট কম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরে অবস্থিত মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারি রাস্তার উপর মাটি ভড়াট করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে পথচারী সহ ১টি কলেজ ও ২টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত তিনটি হোটেলের ময়লা যুক্ত পানি অতিতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘদিন হলে পাইপ লাইন অকেজো হয়ে ময়লাযুক্ত পানি রাস্তার উপর দিয়ে মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করত। এদিকে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে অজ্ঞাত কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বাধা সৃষ্টি করে এবং রাস্তার উপর ৪/৫ ট্রাক মাটি ফেলে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়। যাতে করে উক্ত ময়লাযুক্ত পানি আর কোথাও না যেতে পেরে উক্ত রাস্তায় জমা হচ্ছে। এদিকে উক্ত রাস্তাটি স্থানীয় স্কুল-কলেজের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়ায় তারা ব্যাপক দুর্ভোগের সম্মুখিন হয়েছেন। সামান্যতম যান চললেও রাস্তার পচা দুর্গোন্ধযুক্ত পানি পথচারী ও শিক্ষার্থীদের গায়ে এসে লাগে। এব্যাপারে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অনেকটাই ক্ষুব্ধ হলেও বাস্তবে নিরূপায়। বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা নিয়ে মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে দীর্ঘদিন মামলা মোকর্দ্দমা চলছিল। সেই দ্বন্দের কারণে এরকমটি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাটি ফেলার সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে এবং মাটি ফেলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বেেলন, কারণ হোটেলের দুর্গন্ধযুক্ত পানি বিদ্যালয় মাঠে এসে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক খেলা-ধুলা ব্যহত করছে এবং অনেক রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। তাই পানি আটকাতে আমরা বাধ্য হয়েছি এ কাজটি করতে। সড়কের পাশের ফুল ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, মাটি ঢালার পর থেকেই এখানে হোটেলের দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমা হওয়ায় ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছি। ক্রেতা তো দূরের কথা আমিই বসে থাকতে পারছি না এখানে। মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেসার রহমান বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে রাস্তার উপর মাটি ফেলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তারা রাস্তার পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারিভাবে ড্রেন নির্মাণ কাজেও বাধা সৃষ্টি করছে। জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। ২২ ফুট এর রাস্তাটি সম্পূর্ণ সরকারি জায়গা, তাই প্রতিবন্ধকতা করার অধিকার কারোর নাই। ২২ ফুট রাস্তা বর্তমানে মাত্র ১০ ফুটে এসেছে। জনদুর্ভোগ এরাতে ম্যাপ অনুসারে রাস্তাটি প্রশস্থ করা হবে। আমরা অচিরেই পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মানের ব্যবস্থা করব।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন