বগুড়া সংবাদ ডটকম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে শ্রমজীবি এক নারী (২৪) গণ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সে এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে সান্তাহার-কায়েতপাড়া সড়কে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল রবিবার থেকেই জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্যাতনকারী বখাটেদের বিরুদ্ধে উত্যক্ত করার অভিযোগে থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ করার কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবী করেছেন নির্যাতিত রিনা হালদার।
জানা গেছে, সান্তাহার ইউনিয়নের প্রসাদখালী গ্রামের মৃত শ্যামল চন্দ্র হালদারের মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের মা রিনা হালদার মায়ের বাড়িতে থেকে গ্রামীন সড়ক রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্পে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। প্রতিদিনের মত রিনা রবিবার হেঁটে কাজে যাচ্ছিল। সে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ওই সড়কের তিয়রপাড়াগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছলে, সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা জনি ওরফে জয়, রকি ও আনন্দ সহ ৫ বখাটে রিনাকে ঘিড়ে ধরে। এর পর তারা রিনার পরিধেয় ওড়না কেড়ে নিয়ে মুখে গুঁজে দিয়ে জাপটে ধরে বিবস্ত্র করে এবং গোপনাঙ্গ নানা ভাবে ক্ষত বিক্ষত করতে থাকে। এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ওড়নার অবশিষ্টাংশ দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া শুরু করে। এ সময় প্রচন্ড ধস্তাধস্তিতে রিনার গলা ও মুখ মন্ডলও ক্ষত বিক্ষত হয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে। পাষন্ড বখাটেরা শুধু নির্যাতন করেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি তারা পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে নেয়। এ সময় দুই পথচারি সেখানে পৌঁছলে বখাটেরা দিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর রিনা হালদারকে রক্তাত্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি না নিয়ে নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সে এখন নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ খবর পাঠানো সময় পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন