বগুড়া সংবাদ ডট কম (সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কতুবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত নাড়াপালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কর্ণিবাড়ী দ্বি-মুখী ফাজিল মাদ্রাসার কাঠামোগত সমস্যা এবং জলাবদ্ধতার কারণে রিতিমত শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ১৯২০সালে স্থাপিত অত্র মাদ্রাসা এবং স্কুলটি দফায় দফায় নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এর পর বিভিন্ন জায়গায় এবং বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধে স্থাপন করা হয় প্রতিষ্ঠান ২টি। সম্প্রতিক ২০১৬ সালে নিজস্ব জায়গা ক্রয় করে কুতুবপুর ইউনিয়নে জড়াজির্ন টিনসেট ভবন নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ কোন মতে পাঠদান করে আসলেও বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের বাড়ী এবং অপর ১টি প্রতিষ্ঠানে কোনমতে চালু রেখেছে পাঠদান। সরেজমিনে দেখা যায় নাড়াপালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের পার্শ্বে নাজিমউদ্দিন প্রামানিকের বাড়ীর বারান্দায় ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক মন্ডলী। অপর দিকে কর্ণিবাড়ী মাদ্রাসার ৩৫০জন শিক্ষার্থীকে স্থানান্তর করা হয়েছে বড়ইকান্দি এবতেদায়ী মাদ্রাসায়। এমতাস্থায় প্রতিষ্ঠান ২টির উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন অভিভাবক সহ শিক্ষার্থী। এব্যাপারে নাড়াপালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, আমাদের স্কুলটি অনেক চড়ায় উতরাই পার করে এসেছে, নদী ভাঙ্গন কবলিত স্কুলটি বর্তমানে নিজস্ব জায়গায় স্থাপন করা হলেও জায়গাটি নিচু হওয়ায় দীর্ঘ ৫মাস যাবত আমরা জলাবদ্ধতায় ভুগছি। অপরদিকে বিদ্যালয়ের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তার মন্তব্যে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের কাঠামোগত অবস্থা খুব দুর্বল। তিনি আরো বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ভবন, আসবাবপত্র, ব্রেঞ্চ, চেয়ারটেবিল সহ অনেককিছুর সংকট রয়েছে। এমতাবস্থা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন বিদ্যালয়টির দিকে নজরদেন। এছাড়াও কর্ণিবাড়ী দ্বি-মুখী মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মাজেদ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভৌগলীক কাঠামো এবং জলাবদ্ধতার কারণে দিনদিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। এর আগে আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবনের বরাদ্ধ আসলেও তাহা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেওয়া হয়। এব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুতজ্জামান এক সাক্ষাতকারে বলেন, প্রতিষ্ঠান ২টির ব্যাপারে খোজ খবর নিয়েছি। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রতিষ্ঠান ২টিতে মাটি ভরাট করা এবং কাঠামো নির্মাণ করার বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে,বরাদ্ধ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম সাদেক চৌধুরী জানান, প্রতিষ্ঠানটির সম্যাসার কারণে শিক্ষাকার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা পরিষদের গত মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন