বগুড়া সংবাদ ডটকম (শেরপুর সংবাদদাতা কামাল আহমেদ) : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ভেজাল ও নকল ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ফলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ কিনে উল্টো ভেজালের ফাঁদে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করছেন। মানহীন এসব ওষুধ সেবন করে রোগীরা আরও জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে মারাও যাচ্ছেন। এরপরও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামছে না। গেল বৃহস্পতিবার (২৬অক্টোবর) সন্ধ্যায় চালানো ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে এমন তথ্যই উঠে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পৌরশহরের বারোদুয়ারিপাড়া রেজিষ্ট্র অফিস এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ, ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় বিপুল পরিমান ওষুধ জব্দ করে আগুনে পুড়ে ধ্বংস করা হয়। উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মো. রায়হান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় অবস্থিত শাহিন আলমের মালিকানাধীন শাহিন মেডিকেল স্টোর ও সুশান্ত সাহার মুক্তি ভেটেরিনারী স্টোরে অভিযান চালিয়ে রেজিস্ট্রেশন বিহীন, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও মজুদের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকের নিকট থেকে ১০হাজার করে মোট ২০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় বিপুল পরিমান নকল ও ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়ে ধ্বংস করা হয়। জনস্বাস্থ্য ও প্রাণি সুরক্ষায় ওষুধের দোকানগুলোতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই ভেটেরিনারী সার্জন। অভিযানকালে বগুড়া অঞ্চলের ড্রাগ সুপার আহসান হাবিব ও আইন শৃঙখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এই উপজেলায় মোট ২৮৪টি লাইসেন্সধারী বৈধ ওষুধের দোকান রয়েছে। তবে পৌরশহর উপজেলার ১০ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ওষুধের দোকান। যেখানে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সিংহভাগ দোকানে কোন ফার্মাসিস্ট নেই। ওষুধ বিক্রেতারা স্বল্প শিক্ষিত হওয়ায় চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পড়তে পারেন না। ফলে ভুল ওষুধ কিনে রোগীরা আরও জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা ড্রাগ সুপার মো. আহসান হাবিব বলেন, বর্তমানে ওষুধ বিক্রির কোন নতুন লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া নিম্নমান, ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে এই কর্মকর্তা দাবি করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন