বগুড়া সংবাদ ডটকম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : শস্য ভান্ডারখ্যত শিবগঞ্জে দুই দফা বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই কার্তিকের অবিরাম বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন লন্ড-ভন্ড হতে বসেছে। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের মাঠের রোপা আমন ধান জমিতে নুইয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শাক-সবজির ক্ষেতেরও অবস্থা নাজুক। অতিবৃষ্টিতে শীতকালীণ সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ২ দিনে বগুড়ায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৪৬ মিলিমিটারেরও বেশি। অসময়ে এ বৃষ্টিতে ভাবিয়ে তুলেছে শিবগঞ্জের কৃষকদের। শিবগঞ্জ কৃষি অফিসার মাসুদ আহমেদ জানান, এবছর লক্ষ্য মাত্রা ছিল ২০ হাজার হেক্টর। গত দু’দফা বন্যায় ১ হাজার ৮ ‘শ পঞ্চাশ হেক্টর জমির ফসলাদি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ফসল আবাদের উপযুক্ত জমি আছে ১৮ হাজার ৫ ‘শ হেক্টর জমি। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে আবাদি ৩০ ভাগ জমি নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানীকৃত স্বর্ণা, রঞ্জিত ও মামুন ধানের বৃষ্টি ক্ষতি হয়েছে। কাগজ কলমে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের জরিপ ঠিক থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এবার ধানের উৎপাদন অনেক কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষীরা। শিবগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় চাষীরা ধান চাষ করতে না পারলেও এবার রবি শষ্যের পাশাপাশি শাকসবজির প্রতি ঝুকেছিলেন তারা। ধানের চেয়ে শাক-সবজিতে লাভ বেশি হওয়ায় বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সবজি চাষের দিকে ঝুকেও ক্ষতির মূখে পড়েছে তারা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে সবজির ক্ষেতে পানি জমে গেছে। শীতকালীণ সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, টমেটো, গাজর, ছিম, বরবটি, লাল শাক, শরিষা ক্ষেতেও উঠতি সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানি জমে যাওয়ায় গাছে ইতিমধ্যেই পচন ধরেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার তেঘরী গ্রামের সোহরাব হোসেন জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে কলাগাছ লাগিয়েছি, প্রায় ৩ ‘শ টি কলাগাছ ভেঙ্গে গিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়ে, যা আর কিছুদিনের মধ্যেই বাজারজাতের উপযুক্ত ছিল। এছাড়াও ৫ বিঘা জমির রঞ্জিত ধান মাটিতে নুইয়ে গেছে। একই গ্রামের দুলু মিয়ার দেড় বিঘা জমির ফুলকপি গাছ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। ২/১ জন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা জানান, পানি যদি দ্রুত নেমে যায় তাহলে ধান না পেলেও খড় পাওয়া যাবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন