বগুড়া সংবাদ ডট কম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে) : বগুড়ার ধুনটে অবিরাম বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আকষ্যিক ঝড়ে আবারও ক্ষতির সম্মূখিন হওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষক।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান, ২৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও ৫৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক সবজী চাষাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত অবিরাম বর্ষন ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। আকষ্যিক ঝড়ে উপজেলার প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা-আমন ধান ও শতাধিক হেক্টর জমির উঠতি মরিচ ও টমেটো সহ বিভিন্ন শাক সবজীর ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে ঝড়ে কৃষকের জমির অঙ্কুর গজানো ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। মরিচের উঠতি গাছগুলো ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে আছে। ফসলী জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আর সেই জলবদ্ধতা থেকে ফসল বাঁচাতে নিরন্তন চেষ্টা করে যাচ্ছে কৃষকরা। এদিকে কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও লোকশানের মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের।
পৌর এলাকার পূর্বভরনশাহী গ্রামের দরিদ্র কৃষক তফিজ উদ্দিন টুকু বলেন, এলাকার বৃত্তশালীদের কাছ থেকে ৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ধান রোপন করেছি। আর কিছু দিন পরই ধান পাকা শুরু করতো। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ে ৪ বিঘার জমির অঙ্কুর গজানো ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। বৃষ্টির পানিতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবগুলো ধানগাছই মরে যাচ্ছে। এখন ঋনের টাকা ও জমির মালিকদের ধান পরিশোধ করব কিভাবে এ নিয়েই দুচিন্তায় রয়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অবিরাম বর্ষণ ও আকষ্যিক ঝড়ে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে লোকশানের মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। তারপরও সরেজমিনে বিভিন্ন ফসলী মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন