বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি ফিরোজ কামাল ফারুক) : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় আগুন লাগলে এতোদিন ৩৫ কিলোমিটার দূরে বগুড়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসত। গাড়ি এসে পৌঁছানোর আগেই ক্ষয়-ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে যেত। তাই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের। অবশেষে পূরন হয়েছে সে দাবি। শেষ হয়েছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কাজ। আর এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে জেনে সবার মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বগুড়া গণপূর্ত বিভাগ টেন্ডার আহবান করেন। টেন্ডারের মাধ্যমে মাছুমা বেগম কনস্ট্রাকশন ওই ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের কাজ পায়। ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পৌরসভার সামনে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন।
সূত্র জানায়, এই উপজেলায় আলোচিত আগুন লাগার ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবে উপজেলা পরিষদে দফায় দফায় কয়েক ঘন্টাব্যাপী তান্ডবে ১৬টি অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে সেই সময় পৌর এলাকা বিধ্বস্তনগরীতে পরিণত হয়। উপজেলা পরিষদের বিশাল এলাকা ছিল এক বিরানভূমি। উপজেলা পরিষদ কমপেক্সে থাকা দোতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষের আসবাব আর নথিপত্র পুড়ে ছাইয়ের স্তুপ হয়েছিল। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছিল। বিভিন্ন কক্ষের টেবিল, টেলিভিশন, কম্পিউটার, টেলিফোনসেট, ফ্যাক্স মেশিন, সরকারি সব নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই ছাইয়ের মধ্যেই রয়েছিল উপজেলার সব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্র, কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত রেকর্ড বই, বিভিন্ন সরকারি মামলা, ঋণ, নকশা, ভাউচারসহ সবকিছু। তখন থমকে যায় অফিসের সকল কার্যক্রম। সেই সঙ্গে নেমে আসে স্থবিরতা। এখনো ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের ক্ষত যেন মনে করিয়ে দেয় সেদিনের সেই বিভীষিকার কথা। কতোটা নিষ্ঠুরতার সাথে এই ধরনের একটি হামলা চালনো সম্ভব সেই কথাই ঘুরেফিরে এখনো আসছে সাধারন মানুষের আলোচনায়। সেই তান্ডবে ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া ২০১৫ সালের ১৫মার্চ রহস্যজনকভাবে নন্দীগ্রাম মহিলা কলেজের সামনে ‘কাশেম ইলেক্ট্রনিক্স’-এর টিভি-রেফ্রিজারেটর ও ফার্নিচারের গুদামে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় একঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা। গুদাম মালিক ফজলুল হক কাশেমের দাবি ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। সে সময় যদি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নন্দীগ্রামে থাকতো তাহলে এত বড় বড় ক্ষতি হতো না।
এপ্রসঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী বাকী বিল্লাহ বলেন, নন্দীগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের কাজ সরকারী নিয়ম মাফিক ঠিকাদার কাজ শেষ করছে। এখন শুধু সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের নিকট বিল্ডিংটি হস্তন্তের অপেক্ষায়। তবে এই ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন চালু হলে এ উপজেলার জনসাধারণ উপকার পাবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন