বগুড়া সংবাদ ডটকম:বগুড়ার মাড়োয়ারি ধর্মশালার সভাপতি কল্যাণ প্রসাদ গতকাল সোমবার বগুড়া প্রেসকাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্যে জানান ১৯২২ সালে বগুড়া সদর থানার সূত্রাপুর মৌজার ৫৫২ নম্বর সি.এস খতিয়ানভূক্ত ১৫৩৮/১৭৩৪ দাগের ২২ শতক সম্পত্তি ও সি.এস ৫৬১ নং খতিয়ানভূক্ত ১৫৩৮ দাগের ১০ শতক একুনে ৩২ শতক সম্পত্তি ভোলারাম সরাফ দিং নামে প্রস্তুত হয়। এ সময় ভোলারাম সরাফ দিং বগুড়া শহরস্থ মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের কল্যানের জন্য ১/১১/১৯২২ তারিখের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত সম্পত্তিতে একটি মাড়োয়ারী ধর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্থানীয় মাড়োয়ারী সম্প্রদায় হতে অবকাঠামো নির্মান করে সেখানে মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বিদ্যালয়, অতিথিশালা, মন্দির ও গৃহ নির্মাণসহ সেগুলো ভাড়া দিয়ে ভোগ দখলসহ ধর্মশালার আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রন ও দেখাশুনা নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো বলে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত রিভিশনাল সেটেলমেন্ট জরীপে ধর্ম-শালার নামে এম.আর.আর খতিয়ান প্রস্তুত না হওয়ায় ১(১৩)৬৬-৬৭ নং মিস্ কেসের ইং ২২/১২/১৯৬৬ তারিখের আদেশ মূলে ৭৮৪ নং এম.আর.আর খতিয়ান মাড়োয়ারী ধর্মশালা পক্ষে সেক্রেটারী নামে প্রস্তুত হয়। মাড়োয়ারী ধর্মশালা পক্ষে সরকার বরাবর রাজস্ব প্রদান করা সত্ত্বেও তৎকালীন অতিঃ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইং ১৯৬৭ সালে উক্ত ২২ শতক সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হিসাবে দাবী করে নোটিশ প্রদান করলে তৎকালীন সেক্রেটারী জবাব দাখিল করে ঈড়হঃবংঃ করলে সরকার পক্ষে উক্ত ২২ শতক সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি নয় মর্মে সাব্যস্ত হয়ে সরকার পক্ষে দাবী পরিত্যাগ করে। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, একটি স্বার্থন্বেষী মহল এই মাড়োয়ারী ধর্মশালার সম্পত্তি গ্রাস করার কুমানসে ধর্মশালার সম্পত্তি জমিদারী উচ্ছেদ ও প্রজাতন্ত্র আইনের ৯২ (ক) ধারায় খাস করার জন্য তৎকালীন অতিঃ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বগুড়াকে প্ররোচিত করিয়া ২১ (১৩) ৭৬-৭৭ নং মিস্ কেস্ আনয়ন এবং ৩১/০৮/১৯৭৬ তারিখে তৎমর্মে নোটিশ জারী করে। তখণ ধর্মশালা কমিটি অস্তিত্ব রক্ষার্থে উক্ত নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে সত্ত্ব ঘোষনার দাবীতে তৎকালীন সাবজজ আদালতে। বগুড়া এ ২৪৯/৭৬ অন্য মোকাদ্দর্মা দায়ের করে সরকার পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সূত্রে আদালত ১৫৩৮/১৭৩৪ দাগের ২২ শতক সম্পত্তি ও তার উপরে স্থাপিত ভবন বাবদ মাড়োয়ারী ধর্মশালা নামে মালিকানা সত্ত্ব ঘোষণা করে। বর্তমান পরিচালিত সেটেলমেন্ট জরীপে ধর্মশালা নামে ৫৫ ও ৫৬ নং উ.চ খতিয়ান প্রস্তুত হয়ে চূড়ান্তভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে এবং ধর্মশালা পক্ষে পৌর হোল্ডিং খুলে পৌর কর পরিশোধ করা হয়েছে।
মাড়েয়ারী ধর্মশালা পক্ষ থেকে উপরোক্ত দাখিলী প্রমানাদী প্রিয় সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে যাচাই শেষে প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। শেষে তিনি বলেন, বগুড়া শহরের বনানী-মাটিডালী সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের নামে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে একটি স্বার্থন্বেষী মহলের প্রভাবে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইং ২০০৩ সালে ধর্মশালার ৮২ ফুট দৈর্ঘ ও ৪৪ ফুট প্রসস্থ দোতলা পাকা বিল্ডিং জোড়পূর্বক ভেঙ্গে ফেলে। তখন তারা সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে ২৫/০৪/২০০৩ তারিখে সাংবাদিক সম্মেলন করিয়া মাড়োয়ারী ধর্মশালী রক্ষায় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা সেদিন উপস্থিত থেকে আপনাদের দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক করতোয়া, দৈনিক চাঁদনী বাজার, দৈনিক ইনকিলাব, উত্তরবার্তা, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক সংবাদ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় উক্ত সংবাদ প্রকাশ করার পূর্বের ন্যায় আবারও আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক রফিকুল মোহামেদ আমাদের স্থাপনা ভেঙে ফেললেও সরকারী নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে মাড়োয়ারি সম্প্রদায় বরাবর কোনরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান না করে বরং একটি স্বার্থন্বেষী মহলকে তাদের ভাংচুরকৃত ফাঁকা জায়গা দখল করার ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করায় তারা বাধ্য হয়ে তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ দাবী করে ৩৩২০/২০০৩ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন। যাতে মহামান্য হাইকোর্ট রুলনিশি জারী সহ মাড়োয়ারী ধর্মশালার সম্পত্তি শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে বিঘœ সৃষ্টি করা হতে সরকার পক্ষকে নিষেধাজ্ঞার দ্বারা স্থগিত করেন যা এখনও বহাল আছে। তিনি আরো বলেন, কোন প্রকার আইনগত বাধা না থাকা সত্ত্বেও পৌর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আমাদের খজনা গ্রহনের আবেদন না মঞ্জুর করলে তারা তৎবিরুদ্ধে অতিঃজেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর ১৩(১৩)০৯-১০ নং রিভিশন দায়ের করলে তিনি ০২/০৩/২০১০ তারিখের আদেশে সহঃকমিশনার (ভূমি) কে খাজনা গ্রহনের নির্দেশ দেন এবং তাদের নিকট হতে বাংলা ১৪২০ পর্যন্ত খাজনা গ্রহন করেন।
তিনি বলেন, গুজব ও অন্ধকার হতে প্রকৃত সত্যকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করাই আপনাদের ব্রত। আমরা মাড়োয়ারী ধর্মশালা আজ প্রায় ১০০ বৎসর যাবৎ নিস্কণ্টক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে আমরা বিভিন্ন স্বার্থন্বেষী মহলের লোলুপ দৃষ্টির শিকার হয়েছি আর ঐ মহল সবসময় সরকারকে ব্যবহার করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বে সরকার খাস সম্পত্তি হিসেবে দাবী উপস্থাপন করলেও এবং তাহাতে আদালতের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও এবং সরকার কর্তৃক প্রনীত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনে সুস্পষ্টভাবে আদালতের ডিক্রী প্রাপ্ত সম্পত্তি, ধর্মীয় ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান অর্পিত তালিকাযোগ্য সম্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও ২০১২ সালের অর্পিত সম্পত্তির গেজেটে সম্পূর্ণ অন্যায় ও ভুল ভাবে অন্য নাম প্রদর্শনে ১৫৩৮/১৭৩৪ দাগের ২২০০ সহঃ এবং ১৭৩৪ দাগে ২৫৫৪ সহঃ সম্পত্তি উল্লেখে আমাদের ধর্মশালার সম্পত্তি অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা মাড়োয়ারী ধর্মশালা পক্ষে পূর্বের ন্যায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিয়া আমাদের স্বত্ত্ব দখলীয় সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইবুন্যালে পদক্ষেপ গ্রহন করেছি।
শেষে তিনি বলেন, এরকম অবস্থায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন, জনহিতকর কর্মকান্ড ও ধর্ম নিরপেক্ষতা দৃষ্টিভংগির প্রশংসা সহ সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা আমাদের ধর্মশালার সম্পত্তি নিয়ে যাবতীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করা সত্ত্বেও বর্তমান জেলা প্রশাসনের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি এবং উক্ত প্রকার কর্মকান্ডে বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন আদালতে ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার পক্ষে দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর যাবৎ আমাদের ধর্মশালাকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়া সত্ত্বে এবং ১৫৩৮ দাগের ১০ শতক সম্পত্তি সরকার কোন প্রকারে দাবী না করা সত্ত্বেও এবং তাহা গেজেটভূক্ত না হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সাকুল্য অংশ দাবী করিয়া দখলে বাধা সৃষ্টি সহ বিমাতা সুলভ আচরনে আমরা অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। সরকার পক্ষে হটকারী কর্মকান্ড কোন বিশেষ মহলকে নতুনভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত করতে পারে মর্মেও আমরা আশংকা বোধ করছি।
তিনি সাংবাদিকদেরকে প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনসম্মুখে প্রচার ও প্রকাশ করার আহ্বান জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন