বগুড়া সংবাদ ডটকম (মহাস্থান প্রতিনিধি এসআই সুমন) :  বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানের ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের করতোয়া নদীর উপর নির্মিত সেই বহুল আলোচিত ফাটল ব্রিজ পাইলিং সংস্কার সাপোর্টে দীর্ঘ ৬৭দিন ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে সোমবার (১৬অক্টোবর)
পূর্বের মতোই সব ধরনের যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চালাচল করতে খুলে দেয় বগুড়া সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। উল্লেখ্য, গত (৯ আগস্ট) বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মহাস্থানের হাতিবান্ধা নামক স্থানে করতোয়া নদীর উপর অবস্থিত ব্রিজটি আকস্বিক ফাটল দেখা দেয়। এরপর সারা দেশের সঙ্গে উত্তরের ৯ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হয়। পরের দিন ফাটল ব্রিজ পরিদর্শনে আসেন, বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামন। তিনি ফাটল ব্রিজের বিষয়টি নিশ্চিত করে এই প্রতিবেদককে জানিয়ে ছিলেন, সেতুর চারটি পাটাতনের মধ্যে মাঝেরটি দেবে যাওয়ায় ব্রিজটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এতে ঝুঁকিতে রয়েছে ব্রিজটি। ব্রিজের কমপক্ষে ৪০ ফুট অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত সহ ৬০ ফুট অংশে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর শনিবার (১২ আগস্ট) রাত ৮ টা থেকে পরদিন রোববার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০ টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা ব্রিজের উপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বেইলী ব্রিজ স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করেন। এদিকে বেইলী ব্রিজ নির্মানের পর থেকে ব্রিজের দু’পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এতে চালক ও যাত্রী সাধারণদের যানজটের কবলে পড়ে দূর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। পরে ঢাকা থেকে ব্রিজ ডিজাইন ইউনিটের দু’জন বিশেষজ্ঞ ব্রিজটি পরিদর্শনে এসে ফাটলস্থান চিহ্নিত করে নিচ থেকে পাইলিং সাপোর্ট নির্মাণে ব্রিজটির দ্রুত গতিতে কাজের অনুমোদন দেন। এরই ধারাবাহিকতায় টানা ২মাস ৭দিন ধরে শ্রমিক দ্বারা দিন রাত ব্রিজের নিচে প্রায় ৬০টি পাইলিং পাইপ বসিয়ে ফাটলস্থান সাপোর্ট সংযোগ স্থাপন করা হয়। গতকাল রবিবার ব্রিজের পাইলিং স্থাপন কাজের সমাপ্তি ঘটে। রাত সাড়ে ১২টায় ব্রিজ স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটি উন্মুক্ত করতে সেখানে ২টি জেনারেটরের সাপ্লাই বিদ্যুতে ব্রিজের চত্বর পাশে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া ট্রাফিক বিভাগ,গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ সহ শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহিদ হাসান সহ আইন শৃঙ্খল- বাহীনির একাধিক সদস্য। এবং বিশিষ্ট ঠিকাদার ও বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য মাফুজুল ইসলাম রাজ। এসময় ব্রিজের উভয় পাশে ছিল উৎসুক জনতার ভীড়। এরপর সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ যান চলাচল নিষিদ্ধ করে বেইলী ব্রিজ সরিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে গাড়ি চলাচল করতে উন্মুক্ত করেন। সোমবার সকালে ব্রিজ এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের (টিএসআই) মজিবর রহমানের সাথে ব্রিজ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বললে, এ প্রদিবেক কে নিশ্চিত করে জানান, আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্দেশনায় রাত ১১ টায় ব্রিজের উভয় পাশে যানবাহন চালাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর রাতভর ব্রিজের উপর নির্মিত লোহার বেইলী ব্রিজের সকল সরঞ্জামাদি ভোর ৪টা পর্যন্ত সরিয়ে নিয়ে ব্রিজটির পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনা হয়।
এ কারণে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। ১৯৫৭ সালে করতোয়া নদীর উপর নির্মিত এব্রিজটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলো থেকে গড়ে প্রতিদিন ১২ হাজারের মতো বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করতে এসে দূর্ভোগ ও ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো। এদিকে ব্রীজের দুই পাশে গড়া উঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমান দোকান ছিলো সে গুলো প্রায়ই সরে নেন ব্যবসায়ীরা,সচেতন এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকদের এখনো সংশয় কাটছে না, কতদিন চলবে জোড়া তালী দিয়া এ ব্রিজটি? তারা উত্তরাঞ্চলের সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র রোড ক্ষতিগ্রস্থ এ ব্রিজটির নতুন করে নির্মানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সড়ক ও জনপদ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন