প্রথম আলো অনলাইন থেকে নেওয়া: বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও পরে মা-মেয়েকে ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনায় সদর থানায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এতে শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা তুফান সরকারসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের আদালতে বহুল আলোচিত এ দুটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ অভিযোগপত্র জমা দেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় দুটি মামলারই অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় দুটি মামলা করেছিলেন। এর মধ্যে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলার তদন্ত শেষে প্রধান আসামি তুফান সরকারসহ (৩৭) ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তুফান ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন তুফানের স্ত্রী তাছমিন রহমান ওরফে আশা (২০), আশার বড় বোন পৌরসভার নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি (৩৫), আশার মা লাভলী রহমান ওরফে রুমি (৪৫), তুফানের সহযোগী মো. আতিকুর রহমান ওরফে আতিক (২৫), মুন্না (২৪), আলী আযম দীপু (২৫), মেহেদী হাসান ওরফে রুপম (২৬), সামিউল হক ওরফে শিমুল (২৫) এবং এমারত আলম খান ওরফে জিতু (২৩)। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান ওরফে রুনু (৬০), নাপিত জীবন রবিদাস ওরফে যতিনকে (২৫)।

তদন্ত তদারক কর্মকর্তা জানান, ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনার মামলায় তুফানসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তুফানসহ ১০ জন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাতেও অভিযুক্ত। বাকি তিনজন অভিযুক্ত হলেন তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান, নাপিত জীবন রবিদাস এবং বাদুড়তলা এলাকার আনজুয়ারা বেগম (৫৫)। অভিযোগপত্রে আনজুয়ারা ও শিমুলকে পলাতক এবং বাকি ১১ জনকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুফানের সহযোগী মুন্না, আতিকুর রহমান এবং জীবন রবিদাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াও ৩০ জুলাই আদালত দেওয়া নির্যাতিত মেয়েটির ২২ ধারায় জবানবন্দি, জব্দ করা আলামত, চিকিৎসকের দেওয়া সনদ, আসামিদের স্বীকারোক্তি এবং ঘটনার বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিকতা আমলে নেওয়ার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ভালো কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার কথা বলে নির্যাতিত ছাত্রীকে গত ১৭ জুলাই বাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক (পরে বহিষ্কৃত) তুফান। পরে নির্যাতিত মেয়েটিসহ তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

নিরাপত্তার জন্য ৭ আগস্ট নির্যাতিত ছাত্রীকে রাজশাহী মহানগর এলাকায় সেফহোমে এবং তার মাকে রাজশাহীর শাহ মখদুম থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। আর বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফানের বিরুদ্ধে কারাগারে মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বগুড়া থেকে কাশিমপুর কারাগারের হাই সিকিউরিটি সেলে পাঠানো হয়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন