বগুড়া সংবাদ ডটকম (মহাস্থান প্রতিনিধি এস আই সুমন) : বগুড়ার শিবগঞ্জে পাওনা টাকা পেয়েও জমি রেজিষ্ট্রি দলিল না করে দেওয়ার অভিযোগ। তালবাহানা আর সময় ক্ষেপনে সংঘাতের আশঙ্কা এলাকাবাসীর। ঘটনাটি ঘটেছে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল জগদিশপুর গ্রামে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামে বসবাসকারি মোঃ ইব্রাহীম হোসেন একই গ্রামের মৃত বাতাসু মন্ডলের ছেলে সাবেক স্কুল শিক্ষক মাস্টার মোঃ জবেদ আলী মন্ডলের জগদিশ মৌজার ৩৯২ খতিয়ানের ২৭১/৫৭৪ দাগে এক বিঘা ধানী জমি ৮০হাজার টাকায় এগ্রিম্যান্ট (কটকবলা) নেয়। পরবর্তীতে ওই জমি বিক্রি করেন ইব্রাহীমের নিকট।
ওই গ্রামের মোঃ নওফেল আলী, মামুনুর রশিদ, শাহাদত আলী, ছফির উদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন, মোস্তাক,রশিদসহ অনেকেই সাংবাদিকদের জানান, জমি গ্রহনের পর থেকে বিগত ২বছর ওই জমি চাষাবাদ করেন জবেদ আলী মাস্টার নিজেই। বিনিময়ে প্রতি বছরে ২০হাজার টাকা দেওয়ার কথা তাঁর। বিগত ২বছর জবেদ আলী মাস্টার নগদ টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে ওই সম্পত্তির ১০শতাংশ ২লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। মোঃ ইব্রাহীম হোসেন অবশিষ্ট টাকা দিয়ে স্ত্রী মোছাঃ মজিদা বিবির নামে জমি কবলা রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদন করা হয় শ্রী. বিপুল মৌহুরীর সেরেস্তায়। উক্ত দলিল পত্র পড়িয়া ও তার মর্মবুঝিয়ে নিজ নাম স্বাক্ষর করেন আবেদ মাস্টার। উপজেলা সার্ব-রেজিষ্ট্রার কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির কারনে ওই দিন দলিল জমা করা সম্ভাব হয়নি। এরপর থেকে জবেদ আলী মাস্টার উক্ত জমি রেজিষ্ট্রি দলিল করে দিতে তালবাহান করছেন। শ্রী. বিপুল মৌহুরী দলিল করার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, দলিলের চালান চোত্তাসহ যাবতীয় কাজ সম্পূন্ন আছে।
জমি গ্রহনকারি ইব্রাহীম হোসেন জানান, দীর্ঘদিন হলো, আবেদ মাস্টার জমি দলিল করে দেই-দিচ্ছি করে তালবাহানা করছে। নিরুপাই হয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের বরাবারে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জবেদ আলীর মাষ্টারের বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম দুদুর সংগে কথা হলে টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করে সে জানান আমার ভাই মতিন এ সব টাকা পয়সা নিয়েছে। বর্তমানে সে বাড়ী ছেড়ে পলাতক এর বেশী কিছু আমি জানি না। আমার বাবার মাথা খারাপ।
এ ব্যাপারে আটমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাফ্ফ্র হোসেন জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন, জমি এগ্রিম্যান্ট ও পরবর্তীতে বিক্রি করার ঘটনা সঠিক। প্রতিপক্ষ হাজির না হওয়ায় শালিস করা সম্ভাব হয়নি।
এদিকে নীরহ মানুষের ন্যার্য্য টাকা গ্রহনের পরও জমি দলিল করে দিতে তালবাহানা আর সময় ক্ষেপনে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সচেতন এলাকাবাসী।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন