বগুড়া সংবাদ ডট কম (দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি আবু রায়হান) : দুপচাঁচিয়ায় এক বখাটে যুবকের উত্যক্তের শিকার হয়ে স্কুল ছাত্রী রোজিফা আকতার সাথী(১৫) আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। নিহত রোজিফা উপজেলার জিয়ানগর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে জিয়ানগর মন্ডলপাড়ার গ্রামের গোলাম রব্বানীর মেয়ে। ৮অক্টোবর রোববার দুপুরে নিজ বাড়িতে রোজিফা তার পড়ার ঘরের তালার বাঁশের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এঘটনায় সন্ধ্যায় মেয়ের বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় দুইজনকে আসামী মামলা দায়ের করেন। বখাটে যুবক হুজাইফাতুল ইয়ামিন(২০) একই এলাকার হেড়–ঞ্জ মীরপাড়া গ্রামের আমিনুর রহমান মীরের ছেলে। এ ঘটনার পরই ইয়ামিন ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, পুলিশ ৮অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় ওই এলাকার বজড়াপুকুর বাজারে অভিযান চালিয়ে বখাটে যুবকের বাবাকে আটক করলে আসামীর লোকজন পুলিশের কাছ থেকে বখাটের বাবাকে ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁরা পুলিশের ওয়াকিটকি কেড়ে নিয়ে পুলিশকে লাঞ্ছিত করে। এঘটনায় পর রাতেই বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(পশ্চিম) আবদুল জলিল পিপিএম ও আদমদীঘি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর রহমান ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে অভিযান চালান। পুলিশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখলেও ছিনতাই হওয়া ওয়াকিটকি উদ্ধার করতে পারেনি।
এ ঘটনায় দুপচাঁচিয়া থানার উপপরিদর্শক(এসআই) আবদুর রহিম বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ২৮জনকে সহ প্রায় দেড় শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে থানায় রোববার রাতেই মামলা করেছেন। ওই রাতেই পুলিশ বজড়াপুকুর বাজার থেকে এজাহারনামীয় ২৬ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে হেড়–ঞ্জ গ্রামের তিন-চারটি পাড়া পুরুষ শুন্য হয়ে গেছে। ৯অক্টোবর সোমবার সকাল থেকেই বজড়াপুকুর বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল।
গতকাল সোমবার সকালে জিয়ানগর মন্ডলপাড়া গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকের মাতম দেখা যায়। নিহত স্কুল ছাত্রীর বাবা গোলাম রব্বানী বলেন, প্রায় দুই মাস আগে থেকে বখাটে ইয়ামিন তাঁর মেয়েকে উত্যক্ত করতো। গত এক সপ্তাহে উত্যক্তের মাত্রা বেড়ে গেলে বিষয়টি ৫দিন আগে জিয়ানগর ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। রোববার সকালে রোজিফা বাড়ি থেকে নয়-দশ কিলোমিটার দূরে দুপচাঁচিয়া সদরে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরে স্কুলে না গিয়ে বাড়ির সকলের অগোচরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মোত্তালেব গনির সাথে কথা বললে তিনি জানান, রোজিফা জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সে বরাবরই ক্লাসে প্রথম হতো। সর্বদিক দিয়েই রোজিফা ভালো ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অপরদিকে নিহত রোজিফার সহপাঠিরা একই কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলে।
জিয়ানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বখাটে কতৃক উত্যক্ত করার ঘটনা নিহত রোজিফার বাবার কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনের জের ধরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় ঘটনারদিন রাতেই আমার বড়ভাইকেও পুলিশ জিয়ানগর বাজার থেকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনারদিন রাতে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ায় ২৮জন সহ প্রায় দেড়’শ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই ওই এলাকা থেকে এজাহার নামীয় ২৬জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রোজিফা আক্তার সাথীর আত্মহত্যার বিষয়ে তার বাবা গোলাম রব্বানী উত্যক্তকারী বখাটে ইয়ামিন ও তার বাবা আমিনুর মীরকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নিহত রোজিফার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন