বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট থেকে ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনটের মথুরাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ও রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘পূর্র্ববাংলা সর্বহারা পার্টির’ পোষ্টার। শনিবার বিকালে পোস্টারগুলো স্থানীয় লোকজনের নজরে আসার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এঘটনার পর পুলিশ কিছু পোস্টার উদ্ধার করেছে এবং ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মথুরাপুর গ্রাম থেকে শিমুলকান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার রাস্তার দুই পাশে গাছ, ঘরের বেড়া, স্কুল কলেজের নাম ফলকের সাথে সর্বহারা পার্টির এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে। এরমধ্যে উলিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ফলক, শিমুলকান্দি রাস্তার গাছের সাথে ও মথুরাপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ঘরের বেড়ার সাথে লাগানো হয়েছে। পোস্টারগুলোতে লাল রংয়ের ছাপা অক্ষরে লেখা ‘সর্বহারা পার্টির ৪র্থ জাতীয় কংগ্রেসের আহবান’। এছাড়াও শোষনহীন, শ্রেনীহীন, বিশ্বসমাজ কমিউনিজমের লক্ষে সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য মার্কসবাদ, লেলিনবাদ, মাওবাদের মতবাদকে আঁকড়ে ধরতে বলা হয়েছে। একটি একক মাওবাদী পার্টি ও একটি নতুন ধরনের কমিউনিষ্ট আর্ন্তজাতিক সংগঠন গড়ে তোলার আহবানও জানানো হযেছে। এছাড়াও সরকার বিরোধী নানা শ্লোগানও রয়েছে ওই পোস্টারে। পোস্টারের নিচে লেখা রয়েছে প্রচারে সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি।
মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এলাকার প্রবীন ব্যক্তি আলতাব আলী শেখ জানান, আশির দশকের দিকে এই এলাকায় সর্বহারা পার্টির ব্যাপক প্রভাব ছিল। সেময় সর্বহারা পার্টির অস্ত্রধারীরা ধুনট উপজেলার তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান খাদুলী গ্রামের হাফিজুর রহমান দুদু, স্কুল শিক্ষক নূরুল ইসলাম ও সরকারী দুই কর্মকর্তাকে দিন দুপুরে ব্রাশফায়ার করে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে হত্যা করেছিল। এছাড়াও ১৯৮৮ সালে মথুরাপুর হাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ধেরুয়াহাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। ওই সব হত্যাকান্ড ছাড়াও এলাকার একাধিক প্রভাবশালী শ্রেনীর অন্ততঃ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি সর্বহারা পার্টির হাতে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এসব কারনে এক সময় মথুরাপুর এলাকাটি রক্তাক্ত ও আতঙ্কের জনপদে পরিনত হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় পীরহাটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর সর্বহারা পার্টির তৎপরতা কমে যায় এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ সেলিম বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবারও সর্বহারা পার্টির পোস্টার লাগানোর ফলে তিনি নিজেও নিরাপত্তার অভাব মনে করেছেন। সর্বহারা পার্টির পোস্টার লাগানোর পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী সন্ধার পর বাড়ীর বাহিরে যেতেও ভয় পাচ্ছে।
এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এলাকায় সর্বহারা পার্টির কোন অস্তিত্ব নাই। তবে কতিপয় কিছু ব্যক্তি সর্বহারা পার্টির পোস্টার লাগিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। সংবাদ পেয়ে কিছু পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন