bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডটকম (দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি আবু রায়হান) :দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গত ৪অক্টোবর বুধবার দিবাগত রাতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ২০০৩সালের জুন মাসে সে প্রথমবার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি সীমাহীন দুর্নীতির আবর্তে জড়িয়ে পড়েন। একারণে ২০০৭সালে তার বিরুদ্ধে পৌরসভার অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের হলে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। ওই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে উচ্চ আদালতে তিনি জালিয়াতির যে আশ্রয় নিয়েছেন তার প্রমানও মিলেছে। এর আগে তিনি প্রায় দেড়ডজন মামলায় আসামী হয়ে এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও দ্রুত বিচার আইন মামলায় কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি জামিনে মুক্ত হবার পর ২০০৮সালের আগস্ট মাসে দ্বিতীয় বারের মতো ভোটারদের সহানুভূতির ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। সেইবার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করে আরও ব্যাপক দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৪সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌরসভার নির্বাচনে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিলে সে হেরে যায়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র বেলাল হোসেন সহ পৌর পরিষদ জানুয়ারি মাসে শপথ গ্রহণ শেষে প্রথম সভায় বিগত পৌর পরিষদের আর্থিক বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করার জন্য পৌর সচিব কার্তিক চন্দ্র দাসকে অনুরোধ জানালে তিনি পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ৫১লাখ ৫০হাজার, মেয়র, কাউন্সিলরদের সম্মানি ভাতা ৪লাখ ১১হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১১লাখ ১৩হাজার ৪২৫টাকা, বিএমডিএফ এর কিস্তি ১৭লাখ ৭হাজার ৩৪৮টাকা, ঠিকাদারদের নিকট থেকে আদায়কৃত ভ্যাট ও আয়কর ১৯লাখ ৮হাজার ৭২০টাকা, রাজস্ব খাতের উন্নয়ন কাজের বকেয়া বিল ১৫লাখ ৬৪হাজার ১টাকা, এডিপির বকেয়া বিল ৬লাখ ৮৩হাজার ৫৫৭টাকা, বকেয়া জামানত(রাজস্ব) ৮লাখ ৮৪হাজার ৭৫৭টাকা, বকেয়া জামানত এডিপি ৯লাখ ২১হাজার ৭৩৫টাকা, এডিপির তহবিল হতে ধার স্বরূপ গ্রহণ ৫১লাখ ৮০হাজার টাকা সহ অন্যান্য কয়েকটি খাত মিলিয়ে ২কোটি ৪৭লাখ ৬৩হাজার ৪৫টাকা ঘাটতি দেখান। এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ‘কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে তিনি পৌরসভা পরিচালনা করেছেন এবং বিপুল পরিমান অর্থ লোপাট হওয়ার সাথে তিনি সরাসরি জড়িত রয়েছেন। কারণ টেন্ডারের মাধ্যমে নির্মান কাজসমূহ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলন করে তা আত্মসাতের প্রমান মিলবে পৌরসভার নির্মানকাজ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং নির্মান কাজের প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করলে। পৌরসভার বিপুল পরিমান অর্থ লোপাটের ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) এর হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকার অভিজ্ঞমহল জানান, পৌরসভার লোপাটকৃত অর্থ উদ্ধারে জরুরী ভিত্তিতে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
পৌর মেয়র বেলাল হোসেন জানান, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পৌরসভার অর্থ লুটপাটের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন