বগুড়া সংবাদ ডট কম (আবু রায়হান, দুপচাঁচিয়া থেকে) : দুপচাঁচিয়ার প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক ছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে উপজেলার খোলাশ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ। তাঁর পিতা মুনছুর আলী পেশায় একজন কৃষক। কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ ছাত্র জীবন থেকে জাতীয়বাদী চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। সাংবাদিক ও রাজনীতিবীদ প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ ১৯৮৭ সালে দুপচাঁচিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে তিনি দুপচাঁচিয়া জাহানারা কামরুজ্জামান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে দিনাজপুরের একটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শেষ সময়ে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের লাল সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে দুপচাঁচিয়ার রাজপথ মুখরিত করেন। ১৯৯২ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাশাপাশি প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকতায় মননিবেশ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত “দৈনিক দুর্জয় বাংলা” পত্রিকায় দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সেই সাথে ছাত্রদল বগুড়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম বারের মতো দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০০ সালে দুপচাঁচিয়া সদর পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তিনি পৌর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালে প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ দ্বিতীয় বারের মতো দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত “নয়া দিগন্ত” পত্রিকা প্রকাশ হওয়ার পর তিনি শুরু থেকে নয়াদিগন্তের দুপচাঁচিয়া উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে যোগদান করেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দীর্ঘ্য ৯ বছর নয়াদিগন্তের দুপচাঁচিয়া উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত সাংবাদিক হারুন-অর-রশিদ। ২০০৭ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদ দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন, পাশাপাশি দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রয়াত হারুন-অর-রশিদ একদিকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দক্ষ সংগঠক ছিলেন অন্য দিকে সাংবাদিক নেতা হিসেবে বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ২০১০ সালে তিনি চতুর্থ বারের মতো দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। সেই সাথে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আরো শক্তিশালী ও বেগমান করার চেষ্ঠা করেন। ২০১২ সালের ৬ অক্টোবর তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সংবাদপত্র থেকে চলে যান না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তিনি বাবা, মা, ৩ ভাই, স্ত্রী, ২ সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক হারুন-অর-রশিদ এর গতকাল শুক্রবার ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী ছিল।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন