বগুড়া সংবাদ ডটকম (শেরপুর সংবাদদাতা কামাল আহমেদ) : শেরপুরের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে কৃষকের গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। দু-চারদিন পরপর উপজেলার কোথাও না কোথাও গরু চুরি হওয়ায় আতংকে রয়েছে কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার বিশালপুর, ভবানীপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে এই চুরির প্রবনতা বেশি। গত ০৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপজেলার ভাবনীপুর ইউনিয়নের সিমলা থেকে ৫টি গরু সহ একটি জ্যাক গাড়ি (যার নং ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৩৯২১) এবং ৫ চোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
এলাকাবাসি ও প্রত্যক্ষদর্শি জানান, আজ ০৪ অক্টোবর ভোর রাতে একটি মিনি ট্রাকে ৫টি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় সিমলা গ্রামের লোকজন আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানতে পারে তারা উপজেলার সিরাজনগর গ্রামের মুন্সি ফারুক হোসেনের পুত্র আমানুল্লার ঘোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে ৩টি গরু (যার মুল্য প্রায় ২লক্ষ টাকা) ও পাশের গ্রাম তাড়াশ উপজেলার টাগড়া গ্রামের জসমতের পুত্র মকবুলের গোয়াল ঘড় থেকে ২টি গরু চরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। টাগড়া গ্রাম থেকে গরু নেয়ার সময় মালিক টের পেলে তারা পালিয়ে আসলেও মানুষজন বিভিন্ন এই গরু চোরদের আটকের জন্য খোজাখুজি শুরু করে। আটককৃতরা হলো সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিলজামাই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের পুত্র মুকুল হোসেন (৩৮), একই উপজেলার চান্দাইকোনা দক্ষিনপাড়ার কোদলা দিঘরের মহির উদ্দিনের ছেলে সাহেদ আলী (৪০), দেবরাজপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র আশরাফ আলী (৪০), শেরপুর উপজেলার আমিনপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের পুত্র গাড়িচালক আব্দুল হালিম (২২), আমিনপুর নতুন করোনীর মৃত খরু শেখের পুত্র নবাব আলী (৪০)।
করিমপুরের সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নামকলমুলার শরীফুল ও সুরুজের বাড়ী হতে ৫টি গরু চুরি হয়। এছাড়াও গত ২ অক্টোবর রবিবার দিবাগত রাতে দেওড়ার আলআমিনের গোয়াল ঘড় থেকে একইভাবে আরো ২টি গরু চুরি হয়ছে, যেগুলোর চুরির ব্যাপারে তারা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে গরু চুরির ঘটনা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক মাসে ভবানীপুরে ও মির্জাপুরে বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটলেও কোন চোর ধরা না পড়ায় এবং চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার না হওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা আর আতংক বিরাজ করছে।
মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুরের আন্দিয়ার গ্রামের আছের আলীর পুত্র আলতাফ আলীর গোয়াল ঘড় থেকে গত ১৪ আগষ্ট রাতে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। ওই তিনটি গরুর দাম প্রায় ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তিনি জানান, পরের দিন অনেক খোজাখুজি করেও গরু গুলো না পেয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ডিউটি অফিসার কোন অভিযোগ নেননি। পরে ব্যর্থ হয়ে বাড়ীতে চলে আসেন। গত মাসের ২০ তারিখের (আনুমানিক) দিকে ওই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের পুত্র আব্দুর রহিম সরকারের গোয়াল ঘর থেকে একই ভাবে ৩টি গরু চুরি হয়ে যায়। প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গরু গুলোর এবারো কোন হদিস পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওই গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল লতিফের একটি গাভী গত ২৫ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে চুরি হয়ে যায়। প্রায় লক্ষাধিক টাকা দামের ওই গাভিটি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ সের দুধ দিত। একই গ্রামে পরপর তিনটি চুরির ঘটনায় কেউ আটক বা গরুগুলো উদ্ধার না হওয়ায় এলাকাবাসি গরু চুরি আতংকে ভুগছে।
অনুরুপ ভাবে ভবানীপুর ইউনিয়নে গত দু মাসে বেশ কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সে গুলোর কোন হদিস না পাওয়া ও সংঘবদ্ধ চোরের দল ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় কৃষকরা তাদের গরু নিয়ে শংকার মধ্যে রয়েছে। তবে গত ২৪ আগষ্ট ভবানিপুর বাজারের নৈশ প্রহরিরা রাতে সংঙ্ঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের দুই সদস্য আল আমিন (৩৫), আশরাফুল ইসলাম (৩০) কে গরু সহ হাতেনাতে আটক করে গনধোলাই দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছে। চোরের দল শিখর গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে আব্দুল হাকিমের একটি গাভি ও বাছুর রাতের যে কোন সময় গোয়াল ঘর থেকে চুরি করে ভটভটিতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ভবানিপুর বাজার এলাকায় পৌছলে বাজার পাহারাদার মোহাম্মাদ আলী ও শহিদুল ইসলামের সন্দেহ হলে তাদেরকে গরুসহ আটক করে। পরে গত সোমবার সকাল ৬টার দিকে চোরদেরকে গণধোলাই দিয়ে শেরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
একই অবস্থা বিরাজ করছে বিশালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে। সংঘচদ্ধ চোরের দল রাতের বেলায় গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরি করে বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র সড়িয়ে নিচ্ছে। যে গুলো উদ্ধার কিংবা থানায় মামলা কোনটিই হচ্ছেনা।
ভুক্তভোগীদের দাবী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরু চুরি বন্ধ করতে পুলিশি টহল বাড়াতে হবে। বিশেষ করে দিনে ও রাতে যে গরু গুলো পরিবহনে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে গুলো ভালভাবে চেক করলে চুরি কমার পাশাপাশি চোর দলকেও আটক করা যাবে বলে তারা মনে করছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত বুলবুল ইসলাম জানান, এই চুরির অধিকাংশ ঘটনাই তাদেরকে জানানো হয়না। তবে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন