bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডটকম (শেরপুর সংবাদদাতা কামাল আহমেদ) : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গো-খাদ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। বন্যায় গোচারণভুমির ক্ষতি হওয়ায় উপজেলার শুভগাছা, জয়নগর, শালফা, গজারিয়া, বড়িতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে খড়ের কদর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজারো সমস্যা সংকটের মাঝে এলাকার মানুষ গুলো যে যার মতো করে বন্যা পরবর্তী ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা করছেন। নানা পেশার অন্তরালে তারা বেছে নিয়েছেন গরু পালনের নতুন পথ। বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে গরু ক্রয় করে খামার গড়ে তুলছেন তারা। এসব খামারে গাভি পালন ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট গরুর খামার। কারণ এসব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমানে প্রাকৃতিক গো-খাদ্য পাওয়া যায়। রাখাল সারাদিন গরু গুলোকে পতিত জমিতে প্রাকৃতিক ভাবে গজানো ঘাস খাওয়ান। গরুর জন্য খৈল, ভুষি, নালী, চালের খুদসহ কোন খাবারই বাজার থেকে তেমন ক্রয় করতে হয় না।
কিন্তু বর্তমানে বদলে গেছে সেই চিত্র। দীর্ঘ দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা মাঠের ঘাস পচে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশ বাড়িতে পানি উঠে ভেসে গছে খড়ের পালা। এ কারণে এ সমস্ত এলাকায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় লাগামহীন গো-খাদ্যের বাজারে প্রতিভ্যান গো-খাদ্য (খড়) বিক্রি হচ্ছে ১৩শ থেকে ১৪শ টাকায়। চাহিদা বেশী থাকায় আগের তুলনায় খড়ের দামও বেড়ে গেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে খামারি ও গৃহস্থরা। অনেক ভ্যান চালক রাস্তায় ভ্যান চালানো বাদ দিয়ে নতুন করে গো-খাদ্যের ব্যবসা শুরু করেছে। ইতিপূর্বে গো-খাদ্যের বাজার এমন লাগামহীন হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এখনও আমন ধান ঘরে উঠতে প্রায় দুই মাস বাকি রয়েছে। ঘন ঘন বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ ঘাস ও মজুদকৃত গো-খাদ্য। দড়িহাসরা গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগের দিনে ধান মাড়ায়ের জন্য কোন যন্ত্র ছিল না। বর্তমানে ধান মাড়ায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কারণ মেশিনে ধান মাড়াই করলে অধিকাংশ গোখাদ্য (খড়) নষ্ট হয়ে যায়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনেকাংশেই এজন্য দায়ী। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট ও দাম লাগামহীন হওয়ায় অনেক খামারি ও কৃষক গরুপালনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছেন। খামারি রেজাউল জানান, বর্তমানের বিভিন্ন স্থান থেকে খড় ব্যবসায়ীরা ভ্যানে করে খড় বোঝাই করে শেরুয়া বটতলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসে। আমি শেরুয়া বটতলা বাজার থেকে ১৩শ টাকা দরে এক ভ্যান খড় কিনে এনেছি। খড় ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম জানান, আমরা কয়েকজন মিলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে খড়ের পালা কিনে তা বিভিন্ন বাজারে ভ্যানে করে বিক্রি করছি। এক ভ্যান খড় কিনতে আমাদের অনুমানিক ১১শ টাকা খরচ হয়। আমরা তা ১৩শ থেকে ১৪শ টাকায় বিক্রি করছি। বড়িতলী গ্রামের দিনমজুর রহিম ও বাদশা জানান, তাদের ৫টি গাভি আছে। দৈনিক ১০ কেজি করে দুধ দেয়। দুধ বিক্রির টাকায় চলে তার সংসার। খাদ্যের অভাবে গাভীর দুধ কমে গেছে। গাভিকে খাওয়ানোর জন্য বাজার থেকে খড় কিনছেন। প্রতি আটি (স্থানীয় ভাষায়) খড়ের দাম ১০ টাকা করে। খড়ের পাইকারী ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে খড় কিনে আমরা বাজারে এনে থাকি। ধান কাটার মৌসুমে এক আটি খড়ের দাম ছিল ২টাকা, এখন সেই খড় বিক্রি হচ্ছে ৯-১০ টাকা আটি।
এ বিষয়ে উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ আবু রায়হান জানান, ঘন ঘন বৃষ্টি ও বন্যার কারণে গো খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে এটা সাময়িক, আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাস আবাদ বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন